বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আচরণ রহস্যজনক। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন জনগণের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কীভাবে দেশ গড়তে চাই- সে কথা বলে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি, তখন ভূ-রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ ধারণা করছে।’
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা ১২ আসনে সিপিবি মনোনীত কাস্তে মার্কার প্রার্থী কল্লোল বণিকের সমর্থনে পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। পথসভায় কাস্তে মার্কার প্রার্থী কল্লোল বনিক, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আচরণ রহস্যজনক। সরকার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে চট্টগ্রামের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে লীজ দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, আগামী মন্ত্রিসভার জন্য অপ্রয়োজনীয় গাড়ি কেনা, বাড়ি বানানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে।’
তিনি এসব কাজ থেকে সরকারকে বিরত থাকা এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নির্বাচনী হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখতে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘এতোদিন যারা দেশকে শাসন করেছে তারা রাজধানী ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারেনি। ঢাকা অচল হয়ে গেছে। এই ঢাকাতে সচল করে দক্ষ, পরিবেশবান্ধব, গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক মহানগর গড়ে তুলতে ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। কাস্তে মার্কার প্রার্থী জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে এই কাজটি করবে।’
তিনি বলেন, ‘বাস্তব কারণে দেশের শ্রমজীবী মানুষ এই ঢাকা শহরে ভিড় জমায়। তাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদার শহর হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলার কাজটি করবে কাস্তে মার্কার প্রার্থীরা। একইসঙ্গে বৈষম্য দূর করতে যথাযথ আইন প্রণয়নেও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে।’তিনি বলেন, ‘ভোট নিয়ে এখনো জনমনে সংশয় রয়ে গেছে।’
তিনি ভোটারদের প্রয়োগ, সঠিক ভাবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সময়ের আলো/এনএ