ভারতের তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলির ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ অপ্রাপ্য হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তার কোটি কোটি ভক্তের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই তারকার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় তার অনলাইন আয়, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং চলমান স্পনসরশিপ চুক্তি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কিছু সময় পর অবশ্য অ্যাকাউন্টটি আবার সচল হয়।
২৭ কোটিরও বেশি অনুসারী নিয়ে বিরাট কোহলি ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। সাম্প্রতিক র্যাংকিং অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রভাবশালী ইনস্টাগ্রাম তারকা হিসেবে অবস্থান করেছেন। এনগেজমেন্টের দিক থেকেও তিনি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন, যেখানে তার ওপরে রয়েছেন কেবল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
বর্তমানে কোহলির ফলোয়ার সংখ্যা ২৭ কোটি ৪০ লাখের বেশি, যা তাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারে পরিণত করেছে। ইনস্টাগ্রাম কোহলির জন্য শুধু ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মও।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন, স্পনসরড পোস্ট ও প্রোমোশনাল কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় করেন। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি স্পনসরড ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জন্য কোহলি প্রায় ১২ থেকে ১৪ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন, যা তাকে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ইনস্টাগ্রাম সেলিব্রিটিদের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে।
প্রযুক্তিগতভাবে কোনো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ অদৃশ্য হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে স্বেচ্ছায় ডিঅ্যাকটিভেশন, ইনস্টাগ্রামের নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে সাময়িক বা স্থায়ী সাসপেনশন, হ্যাকিংয়ের চেষ্টা কিংবা প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি।
তবে কোহলি বা তার ম্যানেজমেন্ট টিমের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট অচল হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে নতুন স্পনসরড কনটেন্ট থেকে আয় বন্ধ থাকে এবং চলমান ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনগুলো ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। যদিও কোহলির আয় শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবুও ইনস্টাগ্রাম তার বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ইমেজ ও ডিজিটাল আয়ের একটি বড় উৎস।
যদি অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে, তাহলে পূর্বের আয়ের অর্থ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে পুনরায় সক্রিয় হলে তা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট মুছে গেলে কনটেন্ট, ফলোয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সব ডিজিটাল আয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ ঘটনার রহস্য আরও গভীর হয়েছে বিরাট কোহলির ভাই বিকাশ কোহলির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও একসঙ্গে অপ্রাপ্য হয়ে পড়ায়। ফলে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নাকি প্রযুক্তিগত বা নীতিমালাজনিত কোনো বড় সমস্যার অংশ—তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে।
/ইউএমএইচ