ভারতে নিপাহ ভাইরাসের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই বলে দাবি করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এ কারণে কলকাতা থেকে কোনো ম্যাচ সরানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে জানিয়েছেন বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, নিপাহ ভাইরাসের আশঙ্কায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ভারতে সফর করতে অনিচ্ছুক। তবে বিসিসিআই এসব তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতীয় পক্ষের দাবি, বিশ্বকাপ আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিপাহ ভাইরাস মারাত্মক সংক্রামক রোগ হওয়ায় ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যেকোনো সময় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে, এ আশঙ্কায় এটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কার কথাও উঠে আসছে।
এরই মধ্যে কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, নিপাহ ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ভারত সফরে যেতে চায় না। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারত সফর করছে না এবং এ কারণেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে টাইগাররা, যা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে। রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তানের ভারত সফর না করার বিষয়টিকেও নিপাহ ভাইরাস সংক্রান্ত গুজবের সঙ্গে জড়িয়ে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে কলকাতায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে কি না এবং সেখান থেকে ম্যাচ সরানো হবে কি না, এমন প্রশ্ন উঠলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কলকাতার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ। সরকার বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না এলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ আয়োজন করা হবে।
তবে বিসিসিআই আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেও বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ভারত সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিপাহ ভাইরাসের বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে। পর্যবেক্ষণ, ল্যাব পরীক্ষা এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে সফর করে কি না।
/ইউএমএইচ