বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের প্রিয় পানীয়ের তালিকায় রয়েছে ব্ল্যাক কফি। কাজের ফাঁকে কিংবা ক্লাসরুমে অতিরিক্ত ঝিমুনি লাগলে চট করে আমাদের মাথায় প্রথমেই আসে এক কাপ ব্ল্যাক কফি। কিন্তু দুধ-চা বা দুধ-কফির বদলে ব্ল্যাক কফি খেলে ঝিমুনিটা কিছুটা কম অনুভূত হয়। এ ছাড়াও শরীরে নানা পরিবর্তন হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ব্ল্যাক কফি খেলে প্রথম যে পরিবর্তনটি দেখা যায় তা হলো দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ কমে যাওয়া। তবে দুধ-কফি, বিশেষ করে তাতে চিনি মেশানো হলে দুধের ফ্যাট ও ল্যাকটোজ থেকে লুকানো ক্যালরিও যোগ হয়। অন্যদিকে ব্ল্যাক কফিতে প্রায় কোনো ক্যালোরিই থাকে না। এ কারণে অনেকেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শরীর হালকা লাগা এবং পেট ফাঁপা কম অনুভূত হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাদের দুধে সংবেদনশীলতা আছে, তাদের জন্য ব্ল্যাক কফি ভালো কাজ করে।
ব্ল্যাক কফি কি ওজন নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখে?
পুষ্টিবিদরা বলেন, দুধ-চা বা দুধ-কফির বদলে ব্ল্যাক কফি খেলে সেটি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে ছয় মাস ধরে কফি থেকে দুধ ও চিনি বাদ দিলে ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী ক্যালোরি ঘাটতি তৈরি হয়। শুধু ব্ল্যাক কফি খেলে ওজন কমবে এমন নয়, তবে সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ক্যাফেইন সামান্য মাত্রায় বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং ব্যায়ামের সময় শরীরের চর্বি ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে করতে পারে?
অনেকে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তবে কি ব্ল্যাক কফি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে করতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্ল্যাক কফি খাওয়া শুরু করলে মিষ্টি মিল্ক কফি থেকে হওয়া রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি এড়ানো যায়। তাদের মতে, যাদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা প্রিডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। চিনি কম খেলে সময়ের সঙ্গে ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও উন্নত হতে পারে।
হজমে কী প্রভাব পড়ে?
ব্ল্যাক কফি পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ায়, যা কিছু মানুষের হজমে সহায়ক হতে পারে। তবে যাদের অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে, তারা খালি পেটে ব্ল্যাক কফি খেলে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। দুধ অ্যাসিডিটি কিছুটা কমায়, তাই ব্ল্যাক কফি সকালে খালি পেটে না খেয়ে খাবারের পর খাওয়াই ভালো বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
সবার জন্য কি ব্ল্যাক কফি উপযুক্ত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের গ্যাস্ট্রাইটিস, উদ্বেগজনিত সমস্যা বা ঘুমের সমস্যা আছে, তাদের কফি গ্রহণ সীমিত রাখা উচিত। অনেকে দিনে এক থেকে দুই কাপ এবং সন্ধ্যার পর ব্ল্যাক কফি না খাওয়াই ভালো বলে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
সময়ের আলো/কেএইচও