ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই পৃথক দুই মামলার রায় ঘোষণা করবেন। একটি মামলায় শেখ হাসিনানাসহ তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৭ জন রয়েছে। অপর মামলায় শেখ হাসিনা, তার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ভাগ্নি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৭ জন।
মামলা দুটিতে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি খুরশীদ আলমক। রায়ের দিন তার পক্ষে আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। তিনি দুদক অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি উল্লেখ করে তার খালাস প্রার্থণা করেন। এ মামলায় ২৭ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকায় সেই সুযোগও পাননি।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন, মো. অলিউল্লাহ, মাযহারুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নায়েব আলী শরীফ।
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, তার দুই মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিদের বিরুদ্ধে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। এর মধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের তিন মামলার বিচার শেষে সাজার রায় হয়। শেখ রেহানা ও টিউলিপেরও একটি মামলার রায়ে সাজা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।
এর আগে, গত বছরের ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম দুই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
সময়ের আলো/এনএ