ভোলা ও চট্টগ্রামে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্তৃক গণধর্ষণসহ সারাদেশে বিএনপির অব্যাহত নারী হেনস্তা ও খুনের রাজনীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ কর্মসূচির পালন করে।
সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মু. মহিউদ্দিন খান বলেন, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট। আমরা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা এই বাংলাদেশ গড়ার জন্য জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমরা এ লক্ষ্যে এখনো রাস্তায় আছি।
তিনি বলেন, গত দেড় বছরে বিএনপির অপরাধনামা প্রকাশ করতে সাড়ে চারশোর বেশি পৃষ্ঠা লেগেছে। বিএনপি, ছাত্রদল দলবদ্ধভাবে নারী নিপীড়নের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা মিডিয়া ব্ল্যাক আউটের মাধ্যমে আপনাদের অপকর্ম ঢাকতে চান। কিন্তু বর্তমানে প্রত্যেক মানুষের চোখ একটি মিডিয়া। আপনারা নিজেদের সংশোধিত করতে না পারলে দ্রুত লন্ডন যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যান।
দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যাদের কাছে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নিরাপদ নয়, তাদের আপনারা প্রতিহত করুন। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা তাদের লাল কার্ড দেখাবেন।
ঢাবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান বলেন, আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করার জন্য আমরা জীবন বিলিয়ে দিতে আমরা একবারও দ্বিধা করব না। আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের দিকে চোখ তুলে তাকালে আমরা সেই চোখ উপড়ে ফেলব। কেউ তাদের ইজ্জতে হাত দিলে আমরা সেই হাত ভেঙে দেব।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারা অপপ্রচার চালিয়েছিলো শিবির নারী বিদ্বেষী। তাদেরকে নারীরা ভোট দিবে না। কিন্তু আমরা দেখেছি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমাদের বোনেরা আমাদের ওপরেই বেশি আস্থা রেখেছে।
ঢাবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান বলেন, ৫ আগষ্টের পর আমরা দেখেছি একটা রাজনৈতিক দল এমন কোন অপরাধ নাই তারা সেটা করেনি। আজকে টিআইবির প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে ৯১ শতাংশ অপরাধের সাথে বিএনপি জড়িত। তাদের এত এত অপকর্ম যে এসবের জন্য পত্রিকায় আলাদা একটা পৃষ্ঠা রাখতে হয়, টিভি চ্যানেলে আলাদা বুলেটিন রাখতে হয়।
তিনি বলেন, তারা মিডিয়ার চোখে কাপড় পরিয়ে এসব আড়াল করতে চায়। কিন্তু তারা জনগণের চোখে কাপড় পরাতে পারবে না। তারা বোরকাকে ভয় পায়। তারা সারাদেশে বোরকার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। যারা বোরকার মাধ্যমে আমাদের মা-বোনদের হেনস্তা করার চেষ্টা চালাবে, তাদের মাস্তানি ছুটিয়ে দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এসকে/