বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট - ২০২৬ পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আদ্দোর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় পার্টির নেতারা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতীয় পার্টির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসরুর মাওলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি নাজমা আক্তার।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের পক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপ, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার প্রেসিডেন্ট লেব্রেখটা নানা ওয়ে হেসে-বেইন ও কানাডার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, নীল ফিলিপ ফোর্ড ছাড়াও আইন, রাজনীতি, নির্বাচন, মানবাধিকার, ও কূটনীতিতে অভিজ্ঞ ১১ জন সদস্য বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকের বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা বলেন, ‘বৈঠকে কমনওয়েলথ টিমের সদস্যরা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমাদের কাছে জানতে চান। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ থাকার কারণেই ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। আমাদের তরুণ সমাজ যে ভোটের অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে তা আজও উপেক্ষিত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক দল সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাণহানি সহ সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।’
এ সময় জাপা নেতারা আরও বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনো নির্বাচন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। শুধু সাধারণ মানুষ নয় সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরাও মিডিয়াতে এ সংশয়ের কথা বলছে। আর নির্বাচন হলেও তা আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কি না সেটি নিয়েও সংশয় থেকে যায়।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টির অনেক নেতাদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সে মামলা সরকার প্রত্যাহার করেনি। এ ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাদের নামেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অংশীজনদের সাথে বৈঠক করে নির্বাচন প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মতবিনিময় করছে। নির্বাচনের সুষ্ঠুতা পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা কমনওয়েলথ টিমের লক্ষ্য।
সময়ের আলো/এনএ