শহিদ ওসমান বিন হাদির বোন পরিচয়ে শবনম খাদিজা এক নারী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন। নিজেকে হাদির বোন পরিচয় দিলেও তার আসল পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ইসলামের একটি জনসভায় ওই নারীকে মঞ্চে উঠে প্রকাশ্যে ভোট চাইতে দেখা যায়।
তবে হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নারীকে ‘ভুয়া’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, শহিদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে- ওই নারী হাদি ভাইয়ের তিন বোনের কেউ নন।
এদিকে শহিদ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা তার ফেসবুক পেজে ওই নারীর ছবি শেয়ার করে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন, ওই নারী ওসমান হাদির পরিবারের কেউ নন।
শম্পা আরও লিখেন, শহিদ হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা কোনো নির্দিষ্ট দল দেখে নয় বরং যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দেন। দলমত নির্বিশেষে সততা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান।
নাহিদ ইসলামের প্রচার শিবিরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে শহিদ পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে ওই নারী হাদির আপন ফুফাতো বোন বলে দাবি করেছেন এনসিপির ডেপুটি চিফ অরগানাইজার ডা. মাহমুদা মিতু।
রোববার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আজকে নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় শরিফ ওসমান হাদির বোন বলে যিনি বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি আসলে শহীদ হাদির আপন ফুফাতো বোন। ওসমান হাদির বাবার আপন ছোট বোন জনাবা হাসিনা বেগমের সুযোগ্য কন্যা হলেন আজকে বক্তব্য দেওয়া শবনম খাদিজা। ওসমান হাদির বোন বলে অপরিচিত কাউকে দিয়ে বক্তব্য দেওয়ানোর যে সংবাদ মিডিয়ায় আসছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। শবনম খাদিজার বাবা মাওলানা আব্দুর রশিদ ও মা হাসিনা বেগম। তার নানা শফিজ উদ্দিন মুন্সী এবং শরিফ ওসমান বিন হাদির বাবা মরহুম জনাব শরিফ আব্দুল হাদি তার আপন মামা। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মধ্য কামবেতপুর।’
ডা. মিতু বলেন, আজকের জনসভাস্থলের কাছেই তার বাসা হওয়ায় তিনি ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে কিছু কথা বলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলে তখন তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/জেডআই