২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হয়। এই কালি ভোট জালিয়াতি রোধে ব্যবহার করা হয়। ভোটারের আঙুলে লাগার পর এটি কয়েকদিন থেকে সপ্তাহখানেক থাকে এবং সহজে ধোয়া যায় না। অনেকেই ভাবেন, যেহেতু কালি আঙুলে লেগে থাকে, তাই অজু করা সম্ভব কি না।
কালিতে ব্যবহৃত উপাদান
ভোট কালির প্রধান উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট (AgNO₃)। কালি লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে আঙুলের চামড়ার প্রোটিন এবং লবণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, যার ফলে দাগ স্থায়ী হয়ে যায়। কালি শুকানোর জন্য তাতে অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল মেশানো থাকে, যা সাধারণত শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। রোদে কালি আরও শক্তভাবে চিপকে বসে।
অজুর ক্ষেত্রে প্রভাব
ইসলামিক ফতোয়া অনুযায়ী, অজুর সময় চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন কোনো পদার্থ থাকলে অজু হয় না। তবে ভোট কালি সরাসরি চামড়ায় আবরণ তৈরি করে না, বরং এটি চামড়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করে দাগ সৃষ্টি করে। ফলে হাত ধোয়া বা পানি দিয়ে মুখ, হাত, পা ধোয়া কোনোভাবেই বাধাপ্রাপ্ত হয় না। অর্থাৎ হাতে ভোট কালি থাকলেও অজু-গোসল শুদ্ধ হবে।
ইতিহাস ও উৎপাদন
ছয় দশকে ভারতের ন্যাশনাল ফিজিকাল ল্যাবরেটরি প্রথমবার এই বিশেষ কালি তৈরি করার ফর্মুলা প্রণয়ন করে। এরপর এটি মাইসোর পেন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড (এমপিভিএল)-কে তৈরি করার জন্য দেওয়া হয়।
ভোট কালি থাকলেও ইসলামিক বিধান অনুযায়ী অজু-গোসল সম্পূর্ণ শুদ্ধ হবে। কালি শুধু বাহ্যিক চিহ্ন, অজুতে কোনো প্রভাব ফেলে না।
/ইউএমএইচ