আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বদলে দিতে পারে ‘তরুণ শক্তি’।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা এখন প্রায় পাঁচ কোটি। বিশাল এই জনশক্তিই আগামীর ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধান ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত ও সচেতন এই প্রজন্ম প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ভোটার তালিকার হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সের সব নাগরিককে ‘যুব’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের বয়সভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের সংখ্যাই এখন প্রায় পাঁচ কোটি। মোট ভোটারের একটি বড় অংশ জুড়ে এই তরুণ প্রজন্মের অবস্থান। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং সচেতন এই ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকে পড়বেন, ভোটের নাটাই সেদিকেই ঘুরবে। শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই তরুণ ভোটারদের আধিপত্য বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল।
কেন তরুণ শক্তি এ নির্বাচনের ‘কিংমেকার’
ইসির তথ্যমতে, তরুণ ভোটারদের চাওয়া-পাওয়া প্রথাগত রাজনীতির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। তারা কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। এই পাঁচ কোটি ভোটার যদি ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তবে যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভাগ্য নির্ধারণে তারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোরও নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন করতে দেখা গেছে। মূলত নির্বাচনী রণকৌশল এই বিশাল জনশক্তিকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।
তরুণ ভোটারদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ক্যাটাগরিতে। সর্বমোট তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটির কাছাকাছি। প্রায় আড়াই কোটি ভোটারের বয়স ২২ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। তালিকাতে দেখা গেছে, ১৮-২১ বছর বয়সী ভোটার ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন।
একইভাবে, ২২-২৫ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬ জন, ২৬-২৯ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন, ৩০-৩৩ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ জন।
বয়সভিত্তিক ভোটারের চিত্র
তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী ও জ্যেষ্ঠ ভোটারদের সংখ্যাও কম নয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি। বয়সভিত্তিক ভোটারের মধ্যে রয়েছে—৩৪-৩৭ বছর বয়সী ভোটার রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫ জন,৩৮-৪১ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৪৫০ জন, ৪২-৪৫ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২ জন, ৪৬-৪৯ বছর বয়সী ভোটার ৯২ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৩ জন, ৫০-৫৩ বছর বয়সী ভোটার ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০ জন, ৫৪-৫৭ বছর বয়সী ভোটার ৬৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮ জন, ৫৮-৬০ বছর বয়সী ভোটার ৫১ লাখ ৮১ হাজার ১০৩ জন এবং ৬০ বছরের বেশি ভোটার ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৪ জন।
অঞ্চলভিত্তিক ভোটার বিন্যাস
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা অঞ্চল সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এটি যেকোনো দলের জন্য ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু। অঞ্চলভিত্তিক ভোটার বিন্যাস নিচে তুলে ধরা হলো—ঢাকা অঞ্চলের ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫ জন ভোটার রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রাজশাহী, প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮০ জন ভোটার রয়েছে রাজশাহীতে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে ভোটার রয়েছে, ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯ হাজার ২৭১ জন; কুমিল্লা অঞ্চলে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫০ জন; খুলনা অঞ্চলে ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৬১০ জন; রংপুর অঞ্চলে ১ কোটি ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ১২২ জন; চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯৯ লাখ ১১ হাজার ৩২০ জন; সিলেট অঞ্চলে ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২২ জন; বরিশাল অঞ্চলে ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ১২৭ জন; ফরিদপুর অঞ্চলে ৬১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৬ জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হবে ঢাকা অঞ্চল এবং পাঁচ কোটি তরুণ ভোটার। যারা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আস্থা জিততে পারবে, শেষ হাসি তারাই হাসবে।
/ইউএমএইচ