ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট কাল। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো-ভোটের মাঠের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রথমবার উন্নত প্রযুক্তির ‘মানুষবিহীন আকাশযান’ বা ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে এক নতুন ও প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটগ্রহণ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আকাশপথে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।
নির্বাচন ভবনের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সূত্রে জানা গেছে, দেশের আকাশসীমা রক্ষায় নিয়োজিত বিশেষ কৌশলগত সম্পদ বা ড্রোনগুলো এখন নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিমানবাহিনী প্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ৩,৭৩০ জন সদস্য এই প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া, জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই ড্রোনগুলো থেকে প্রাপ্ত ‘লাইভ ভিডিও’ বা সরাসরি চিত্র একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এবং প্রধান উপদেষ্টার দফতরে প্রদর্শিত হবে, যা যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবে।
শেরপুর-৩ আসন ব্যতীত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মোট ২,০৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী (২৭৫ জন) রয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বিএনপির (২৯১ জন)। এ ছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিও বড় সংখ্যায় প্রার্থী দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিার্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি। ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষে ভোট দেবেন নাগরিকরা। নারী ও পুরুষের পাশাপাশি ১,২২০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গাজীপুর-২ আসনে সর্বোচ্চ এবং ঝালকাঠি-১ আসনে সর্বনিম্ন ভোটার সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে।
নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রায় আট লাখ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। আর ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত থাকছেন প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।
সময়ের আলো/এনএ