একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একইসঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়েও মত জানাবেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সারাদেশের ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশন।
রাজধানী ঢাকায় ভোটের সকালে বেশকিছু কেন্দ্রে দেখা গেছে, কেন্দ্রের সামনে কিছু জটলা আছে। মানুষ ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। কেউ কেউ দিনের শুরুতেই সকাল সকাল ভোট দিচ্ছেন৷ তবে শীতের সকালে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি খানিকটা কমই লক্ষ্য করা গেছে৷ বেলা বাড়ার সঙ্গে উপস্থিতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা নির্বাচন কর্মকর্তাদের।
ঢাকার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম আজ সকালে সময়ের আলোকে জানান, তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ছায়ায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী আছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরাও সক্রিয় আছে। আমরা সবকিছু কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটরিং করছি।
একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ২৯৯টি আসনে এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর জানা গেছে, ভোটের নিরাপত্তায় ১ লাখ ৩ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ জন এবং দেশের ৫টি জেলার ১৭টি আসনে নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে ১ হাজার ২১০ প্লাটুন, অর্থাৎ ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মোতায়েন থাকবে। কোস্ট গার্ড দেশের ১০টি জেলার ১৭টি আসনে, ২০টি উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য মোতায়েন করবে। পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচনে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) থেকে মোট ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।