শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অনেক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশের মানুষ ভোট দিলেও নিজের ভোট নিজ আসনে দিতে পারেননি রংপুরের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী জিএম কাদের ও আখতার হোসেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে এবং রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোট দিতে পারেননি। কারণ, দুজনই ঢাকার তালিকাভুক্ত ভোটার।
নির্বাচনী হলফনামা সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার উত্তরা এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, তিনি উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটার।
অন্যদিকে, এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের সদরা তালুক গ্রামে হলেও তিনি বর্তমানে ঢাকার ভোটার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তার ভোটকেন্দ্র ঢাকার উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এ বিষয়ে আখতার হোসেন জানান, ভোটার আবেদনের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তখন বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান ঠিকানার ভিত্তিতেই তার নাম ঢাকার ওই এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভোটার এলাকা পরিবর্তন না করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছেন। তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করলেও নির্বাচন কমিশন তাকে সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ তার।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছে ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে আটশ ৭৩ জন প্রিজাইডিং, পাঁচ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং এবং ১০ হাজার পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সময়ের আলো/এনএ