নির্বাচনে যেভাবে ভোট হয়েছে ফলাফলে যদি একই ধারা থাকে, তাহলে জামায়াত ইসলামী ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর ডা. আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণের পর সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা-১৫ আসনে তার প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। অগ্রিম বলা সমীচীন নয়। জনগণের ওপর আস্থা আছে। প্রাথমিক ফলাফলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এটাকে নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থ আমাদের কাছে বড়। এ পর্যন্ত যে ফলাফল এসেছে বেশিভাগ জায়গায় এগিয়ে আছে। আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।’
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘অনেক শঙ্কা ছড়ানো হয়েছিল। বড় কোনো কেলেঙ্কারি হয়নি। সমাজে একসাথে চলতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে।’
নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকেও আমাদের দেখা হয়েছে। যে কোনো একজন জিতবে। আমরা একজনের জয় মেনে নেব। আমি নির্বাচিত হলে সবার পরামর্শ নিয়ে একসাথে কাজ করব। সরকারে গেলে সকল দলকে পাশে চাইব। যেসব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে তা বজায় রাখব, খোলা মন নিয়ে সবার প্রাপ্য দেব, আমাদেরটা বুঝে নেব।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জন্মের পর থেকে বার বার নিষিদ্ধ হয়েছে। কখনো থেমে থাকেনি। যারা হাল ধরেছিলেন তারা চলে গেছেন। কারোর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবার কেউ জুলুমের শিকার হয়ে চলে গেছেন।’
প্রবাসীদের উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘গত তিন নির্বাচনে আমরা কেউই ভোট দিতে পারিনি। এবার প্রবাসীরাও ভোট দিতে পেরেছেন। তারা আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তারা অনেক অধিকার থেকেই বঞ্চিত ছিলেন। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে বাকিগুলো এমনিই চলে আসবে। আমরা যদি তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করি তারা আমাদের আরও উজাড় করে দেবেন।’
জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের রেমিটেন্স না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাতে সরকারের ভিত নড়ে গিয়েছিল। বহু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে আটক হয়ে জেলে মারাও গেছেন। আমরা তাদের স্বীকৃতি দিচ্ছি। ক্ষমতায় আসলে তাদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। জুলাইয়ে যেসব মায়েরা মাঠে নেমেছিলেন, আমি মা বোনদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করব, তাদের সেরা মর্যাদা দিতে।’
সময়ের আলো/এনএ