জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘পঞ্চগড়ের বর্তমান ডিসি সাহেব হচ্ছেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রোগ্রামে তিনি শুধু বিএনপির নেতাদের নিয়ে বসেন। দেশে কি আরেকটা স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে? আমরা এটা হতে দেব না।’
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলতলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘১৪, ১৮ ও ২৪-এর নির্বাচন যারা রাতের অন্ধকারে ভোট চুরির মধ্য দিয়ে করেছিল, তারা ভেবেছিল সচিব হবে। আজকে তাদের একটারও চাকরি নাই। মনে রাখবেন, জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করলে, রাষ্ট্রের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কিংবা কোনো দলের দালালি করলে এই বাংলাদেশে আর জায়গা হবে না। আওয়ামী লীগ ছিল, আজ নাই। বিএনপি আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে।’
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের বিশেষ বরাদ্দের হিসাব চেয়ে এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘গত ৫ মাসে চারটি বিশেষ বরাদ্দে এক কোটি টাকার বেশি এসেছে। এনসিপির সংসদ সদস্যরা তাদের বরাদ্দের হিসাব জনগণের কাছে প্রকাশ করলেও, পঞ্চগড়-১ আসনের বরাদ্দের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এই টাকা যদি আপনার নেতাকর্মীদের পকেটে ঢুকাতে চান, তবে আগামীর বাংলাদেশে আমরা এটা হতে দেব না।’
সভায় আটোয়ারী উপজেলার একটি খাল খনন প্রকল্পের অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৫১ লাখ টাকার প্রকল্পে এত অনিয়ম হয়েছে যে, এখন শুধু খালটা খাওয়া বাকি আছে।’
এছাড়াও তিনি সরকারি কার্ড বিতরণ, এলএসডি গুদামে ধান-গম সংগ্রহে দলীয় সিন্ডিকেট এবং বিএডিসিসহ বিভিন্ন সারের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করেন।
তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা সীমান্তকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘বিএসএফ যদি আমার সীমান্ত দিয়ে একটি পুশইন বা হত্যার চেষ্টা করে, তবে তেঁতুলিয়ার মানুষ বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাজারে হাজারে সীমান্তে দাঁড়িয়ে যাবে। সীমান্ত রক্ষা না হলে আমাদের ঘরও রক্ষা হবে না।’
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য (রংপুর-৪) আখতার হোসেন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম-২) আতিকুর রহমান মুজাহিদ। তেঁতুলিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে এবং যেকোনও ধরনের ফ্যাসিবাদী কাঠামো নির্মূল করতে ছাত্র-জনতাকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সময়ের আলো/মহু