১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন তারেক রহমান গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গেল জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা
তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর থেকেই ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ঐক্যের বার্তা দিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনতে পারবে না। আমরা যদি এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, তবে সেখান থেকে ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব।’
আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করা’ ছিল তার প্রথম অগ্রাধিকার। হাসিনা আমলে রাজনীতিকীকরণের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করাও তার সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।
ভারত সঙ্গে সম্পর্ক
নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টাইমকে তারেক বলেন, ভারতের সঙ্গে করা কিছু চুক্তিতে ‘অসামঞ্জস্য’ রয়েছে, যা সংশোধন করা দরকার। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘সবার আগে থাকবে বাংলাদেশের স্বার্থ’।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও কর্মসংস্থান
বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করে। যুব বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া, আমদানিতে বিধিনিষেধ এবং শিল্প খাতে চাপ—সব মিলিয়ে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি—ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা; ব্যাংকিং খাত উদারীকরণ; প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী কর্মীর দক্ষতা উন্নয়ন। এসব পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান।
সময়ের আলো/কেএইচও