ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোটে প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। বেসরকারিভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে প্রায় ৬২.৪৭ শতাংশ 'হ্যাঁ' এর পক্ষে এবং ২৯.৩২ শতাংশ 'না' এর পক্ষে ভোট পড়েছে। দ্বিগুণেরও বেশি ভোট নিয়ে দেশব্যাপী 'হ্যাঁ' জয়ী হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রকাশিত গণভোটের ফলাফল ও হিসাব নিয়ে বড় ধরনের গড়মিল খুঁজে পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ আসনে 'হ্যাঁ' জয়ী হলেও ১১টি আসনে 'না' ভোট জয়ী হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ২ হাজার ৩৩৪ জন। এর মধ্যে গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ। 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং 'না' ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। এ ছাড়া, প্রদত্ত গণভোটের মধ্যে বাতিল বা অবৈধ হয়েছে ৭৪ লাখ ২ হাজার ২৮৫টি ভোট।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া গণভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজশাহী-৪ আসনে গণভোট কাস্ট হয়েছে ২৪৪.২৯৫ শতাংশ। যেখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন, কিন্তু সেখানে ভোটগ্রহণ দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৫২৩টি। এই আসনে 'না' ভোটের পক্ষে পড়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার ২২৯ ভোট এবং 'হ্যাঁ’ এর পক্ষে পড়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২ ভোট। এই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল বারী সরদার।
এ ছাড়া, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে গণভোট পড়ার হার দেখানো হয়েছে মাত্র ৭.৮৯৯ শতাংশ। যা একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কাস্টিং ভোটের তুলনায় অনেক কম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোট পড়েছে ৬০.৮৩ শতাংশ। এই আসনে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা।
এদিকে, নেত্রকোনা-৩, নেত্রকোনা-৪ এবং নেত্রকোনা-৫ আসনে 'হ্যাঁ' ভোটের সংখ্যা ওই আসনগুলোর মোট ভোটারের চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে। নেত্রকোনা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬ জন হলেও 'হ্যাঁ' তে ভোট পড়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি। অথচ, সেখানে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যার স্থলে দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৫৮ ভোট এবং কাস্টিং ভোট দেখানো হয়েছে ৫৬.৬৫৯ শতাংশ। নেত্রকোনা-৪ ও নেত্রকোনা-৫ আসনেও একইভাবে তথ্যের গড়মিল রয়েছে।
অন্যদিকে, গণভোটে দেশজুড়ে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে পড়েছে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ ভোট এবং 'না' এর পক্ষে পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গণভোট প্রদানের গড় হার ৬০.২৬ শতাংশ।
পার্বত্য জেলা ও গোপালগঞ্জের সব আসনেই 'না' জয়ী
২৯৯টি আসনের মধ্যে মোট ১১টি আসনে 'না' ভোট জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য তিন জেলার সবকয়টি (৩টি) এবং গোপালগঞ্জের সবকয়টি (৩টি) আসনে 'না' জয়ী হয়েছে। খাগড়াছড়ি আসনে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে পড়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫ ভোট এবং 'না' এর পক্ষে পড়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪২ ভোট। রাঙামাটি আসনে 'হ্যাঁ' এর চেয়ে 'না' ভোট ১ লাখ ৮ হাজার ১০৬টি বেশি পড়েছে। একইভাবে বান্দরবানেও 'না' ভোট ১৮ হাজার ৭৩৯টি বেশি পড়েছে।
গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই 'হ্যাঁ' এর চেয়ে প্রায় তিন গুণ ভোট পড়েছে 'না' তে। গোপালগঞ্জ-১ আসনে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে ৫৪,৭১৬টি এবং 'না' ভোট পড়েছে ১,২৮,২৯৮টি। গোপালগঞ্জ-২ আসনে 'হ্যাঁ' ভোট ৩৪,৩০২টি এবং 'না' ভোট ১,০৭,২৯০টি। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে 'হ্যাঁ' ভোট ৩৩,৪৯৮টি এবং 'না' ভোট পড়েছে ৯৩,৩৬৮টি।
এ ছাড়া, অন্য যে আসনগুলোতে 'না' ভোট জয়ী হয়েছে সেগুলো হলো— ঝিনাইদহ-১, সুনামগঞ্জ-২, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২ এবং রাজশাহী-৪। 'না' ভোট বেশি পাওয়া এই ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হয়েছেন। শুধুমাত্র রাজশাহী-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী।
সময়ের আলো/এনএ