ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি ও তার শরিকরা। এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিএনপির নেতৃত্বেই গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী সরকার। তবে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াত জোটও লড়াই করেছে হাড্ডাহাড্ডি। আর দলটির আরেক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তুলনামূলক ভালো করেছে। তবে প্রধান এই তিন দলেরই বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা পরাজিত হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ফল অনুযায়ী বিএনপি ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরাজিতদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি না। হয়তো আরেকটু সিরিয়াস হলে ভিন্ন রকম ফলাফল হতে পারত। কিছু আসনে শীর্ষ নেতাদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে বিস্ময়করভাবে। আবার হারলেও সম্মানজনক ভোট পেয়ে আলোচনায় এসেছেন কেউ কেউ। কিন্তু অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবার জামায়াতের ফলাফলকে দেশের রাজনীতিতে বিস্ময়কর উত্থান বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা। কী করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি বাজিমাত করল সেই প্রশ্নও ঘুরেফিরে আসছে। ফলাফলে দেখা গেছে, ১ থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন ২ জামায়াত জোটের প্রার্থী। ৫ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত ৭ জন, ২০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে ১২ জন এবং ৩০ হাজার ভোটে কম ব্যবধানে হেরেছেন ৭ জন।
অথচ একসময়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নিবন্ধন অবৈধ ও নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ হয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমনকি ২০১৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাস ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততা থাকায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে নিষিদ্ধ ঘোষণার ২৮ দিনের মাথায় সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আবার মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে শীর্ষ অনেক নেতার ফাঁসি হয়েছে। আবার সেই ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে সংসদ সদস্য হয়েছেন এক শীর্ষ নেতা। তবে জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতো বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল প্রার্থীও হেরেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ আসনে ভোটের পার্থক্য খুব বেশি নয়। জামায়াতের অতীত ইতিহাসে এত সংখ্যক আসন কখনো পায়নি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত তা প্রায় নিশ্চিত।
অন্যদিকে জামায়াতের অতীত সংসদ সদস্য নির্বাচনে দেখা গেছে, ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জামায়াতের কতিপয় নেতা ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৬ জন প্রার্থী জয়ী হন। ১৯৭৯ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১০টি আসনে জয়লাভ করে। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮টি আসনে বিজয়ী হয় এবং সরকার গঠনের জন্য সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সমর্থন দেয়। ১৯৯৬ সালে নির্বাচন করে তিনটি সংসদীয় আসন লাভ করে। ২০০১ সালের অষ্টম জতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটে অংশগ্রহণ করে ১৭টি সংসদীয় আসন লাভ করে এবং মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দুজন সদস্য মন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন লাভ করে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে এবং ২০১৮ সালে কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতের প্রার্থীদের জয় শুধু সংখ্যাগত নয়, বরং সুনির্দিষ্ট এলাকায় ভোটে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপি ও অন্যান্য ধানের শীষ প্রতীকধারী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও জামায়াত স্থানীয় প্রভাব ও জোট কৌশলের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, জামায়াত নির্বাচনি কৌশল ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে আগামী নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নির্বাচনের প্রার্থীদের পরাজয়ে প্রশাসনের ভূমিকাকে দুষছে জামায়াত। প্রশ্ন তুলেছে ‘নির্বাচনের স্বচ্ছতা’ নিয়ে।
১০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে পরাজিতরা হলেন- ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আব্দুল হাকিম পরাজিত হয়েছেন ৫ হাজার ৩১০ ভোটে, ময়মনসিংহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল আহসান ৭ হাজার ৭৮৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ৭ হাজার ৭৯৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত, ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ৭ হাজার ভোটে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফয়জুল হক, খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোবারক হোসাইন ৯ হাজার ৯৩৮ ভোটে পরাজিত, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুকের কাছে ৯ হাজার ৯৯০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেহাদ খান।
২০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে পরাজিতরা হলেন- শেরপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া ১০ হাজার ১৩৭ ভোটে হেরেছেন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর কাছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রেজাউল করিম ১২ হাজার ৮১০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন, নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ১১ হাজার ভোটে পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. খবিরুল ইসলাম, নাটোর-১ আসনে ১২ হাজার ভোটে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ১৩ হাজার ৬০৩ ভোটে পরাজিত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ বি এম সিরাজুল মামুন, ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আছাদুজ্জামান ১৪ হাজার ১৯৮ ভোটে হেরেছেন, খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ১৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন, বরগুনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ, বগুড়া-৩ আসনে ১৬ হাজার ভোটে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ, নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের কাছে ১৬ হাজার ৪৩৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন এনসিপি প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, নোয়াখালী-৩ আসনে পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ১৭ হাজার ৯০ ভোটে পরাজিত, বরিশাল-৩ আসনে ১৯ হাজার ভোটে পরাজিত আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী, নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহা. মাহবুবুল আলম।
এ ছাড়া ৩০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন নওগাঁ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম, নড়াইল-১ বিএনপির প্রার্থীর কাছে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ওবায়দুল্লাহ, বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী ২৬ হাজার ২২৯ ভোটে পরাজিত, পিরোজপুর-৩ আসনে বিএনপির কাছে ২৭ হাজার ভোটে পরাজিত জামায়াতের প্রার্থী, নোয়াখালী-৫ আসনে ২৭ হাজার ভোটে পরাজিত, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে ২৮ হাজার ভোটে নিকটতম প্রার্থী জামায়াত প্রার্থী মো. আলী আলম পরাজিত এবং মাগুরা-২ আসনে ৩০ হাজার ভোটে পরাজিত জামায়াতের মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ। মো. আব্দুস সালাম পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট।
আরও পড়ুন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরাজয়কে ‘সাজানো’ বলে মন্তব্য করে সবাইকে ‘ধৈর্য ধরার আহ্বান’ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বে থাকা দলটির ধারণা নির্বাচনে প্রশাসনও ‘নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি’। শুক্রবার সকালে ফেসবুক পোস্টে এই আহ্বান জানানো হয়। সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে দলটি।
দলটির ভাষ্য, ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীরা অল্প ভোটে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো দেখা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে মনে হচ্ছে। এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনি অনিয়ম নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বেশ কয়েকটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এমন অভিযোগ করেন। জামায়াতের আমির দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকের ফলাফল নিয়ে কথা বলেন। এসব বিষয়ে সুষ্ঠু বক্তব্য এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাসীরুদ্দীনের ওখানে যে কারণে একসেপ্ট করা হয়েছে তা মামুনুল হকের এখানে বাতিল হয়েছে। সেক্রেটারির আসনসহ বেশ কিছু আসনে এমন হয়েছে। যাদের আসনে এমন হয়েছে তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট তারিখের ভেতর প্রতিকার না হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। যা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ না হলে আমরা বাধ্য হব যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে।
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ ফলাফল বন্ধ। এগিয়ে থাকলেও হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় কষ্ট করে আমাদের ফল ধরে রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ফলাফল ঘষামাজা করা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে। সেন্টার দখল করে যা করা হয়েছে তা ভিন্ন উদাহরণ। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যা দেখেছে তা তারা তুলে ধরবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরাও তুলে ধরব। আমরা কালো অধ্যায়ের রাজনীতি আবারও চালু হোক, তা চাই না। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভদ্রতা ও ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল করবেন। কারণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জানানোর পরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এটা ফ্যাসিবাদী লক্ষণ।
ফ্যাসিবাদ আবারও দেখা দিলে তা দুর্ভাগ্য। এ দায় তাদের ওপর আসবে। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে থাকতে হলে ঐক্য নিয়েই থাকতে হবে। সংবিধানের আলোকে সবাই সমান। সবার জন্য একই নীতি হতে হবে। যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে আবারও তা হলে আমরা ছাড় দেব না। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আমরা আজকে থেকে আপনাদের সঙ্গে আরও শক্তভাবে থাকব। তরুণসমাজ বুকের রক্ত দিয়ে যা দিয়ে গেছে, যেমন দেশ চেয়েছে, আমরা যা বলেছি আগে তা বাস্তবায়ন করতে আমরা লড়ে যাব। আমাদের অবস্থান আপামর জনগণের পক্ষে। আমাদের বাধ্য করা হলে রাজপথেও আমরা নামব। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ১১ দলকে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। অনেকে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে বলব, আরপিও যাদের কাভার করে না, তাদের ফলাফল স্থগিত করে এর সুরাহা করুন।
এএডি/