জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও, ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে চমক দেখিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাদের ভোটের লড়াইয়ে ব্যবধান ছিল মাত্র ৫ হাজার ২০৯। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরেও রাজপথের আলোচিত মুখ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। তবে নির্বাচনি ময়দানে এই পরাজয়ই কি তার সংসদ যাত্রার শেষ? মোটেও না।
বরং এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক ‘জুলাই সনদ’ আর গণভোটের নতুন সমীকরণে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে (সিনেট) পা রাখার পথে অনেকটা এগিয়ে রয়েছন।
জুলাই সনদের আলোকে গঠিতব্য ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারের ভিত্তিতে সদস্য মনোনীত হবেন। এনসিপি এবার ৩০টি আসনে লড়াই করে মোট ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট সংগ্রহ করেছে, যা মোট সংগৃহীত ভোটের ৩.২১ শতাংশ। এই গাণিতিক হিসাবে উচ্চকক্ষে এনসিপির অন্তত ৩টি আসন পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সেই সম্ভাব্য তিন সদস্যের তালিকায় সবার ওপরে জ্বলজ্বল করছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম। এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা গণমাধ্যমকে জানান, ‘উচ্চকক্ষে মনোনয়নের বিষয়ে জোট ও দলের ভেতরে আলাপ-আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে।’
তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে অন্য এক হিসাব নিয়ে। সামনেই আসছে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। যদি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে উচ্চকক্ষের সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।
এখন দেখার বিষয়, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী কি সংসদীয় উচ্চকক্ষ বেছে নিয়ে নীতিনির্ধারণী রাজনীতিতে যুক্ত হবেন, নাকি রাজপথের উত্তাপ নিয়ে নামবেন ঢাকার নগরপিতার লড়াইয়ে?
এ উত্তর পেতে দেশবাসীকে হয়তো আরও কিছুদিনের রাজনৈতিক নাটকের অপেক্ষা করতে হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও