মানুষ মাত্রই মায়া-মমতা ও প্রেম-ভালোবাসা বহনকারী। মানুষের অন্তরে প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা, ভক্তি-শ্রদ্ধা থাকা খুব স্বাভাবিক। এসব মানবীয় গুণাবলির ভিত্তিপ্রস্তুরে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবী। তবে ইসলাম ধর্মে যেহেতু সবকিছুর সীমারেখা আছে তাই প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতারও রয়েছে সীমারেখা। আছে বৈধ-অবৈধতার নির্দেশনা এবং ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্র। ভালোবাসার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির তাড়নায় ধাবিত হওয়ার আগে মুমিনের কর্তব্য নিজের বৈধ ক্ষেত্রগুলো খুঁজে দেখা।
রবের প্রতি ভালোবাসা : প্রতিটি মানুষের জন্য আবশ্যক আপন রবকে ভালোবাসা। রবের প্রতি ভালোবাসা হবে অন্য সব ভালোবাসার ঊর্ধ্বে। পবিত্র কুরআনে বিবৃত হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে, তারা যেন আপন রবকে অধিক ভালোবাসে’ (সুরা বাকারা : ১৬৫)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো বান্দাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, জিবরাইল (আ.)-কে ডেকে বলেন, অমুক বান্দাকে আল্লাহ ভালোবাসেন। তাই তুমিও ভালোবাসো। তখন জিবরাইল (আ.) তাকে ভালোবাসেন। এরপর জিবরাইল (আ.) আসমানবাসীর কাছে ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো।’ তখন আসমানবাসীও তাকে ভালোবাসেন। এরপর তাকে পৃথিবীবাসীর কাছেও প্রিয়পাত্র করে দেওয়া হয়। (বুখারি : ৬০৪০)
রাসুলের প্রতি ভালোবাসা : আপন রবের প্রতি ভালোবাসার পরই রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা রাখা জরুরি। এ ভালোবাসা ঈমানের দাবি পূর্ণতায় পৌঁছার সিঁড়ি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমারা যতক্ষণ তোমাদের সবকিছু উজাড় করে আমাকে ভালো না বাসবে ততক্ষণ তোমরা প্রকৃত মুমিন হতে পারবেন না।’ (বুখারি : ১৫)
পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা : পিতা-মাতা ও সন্তানসন্ততি ভালোবাসা পাওয়ার অন্যতম হকদার। হাদিস শরিফে বিবৃত হয়েছে, একদা এক সাহাবি রাসুল (সা.)-এর কাছে জিগ্যেস করলেন, ‘মানুষের মধ্যে ভালোবাসা পাওয়ার সবচেয়ে অধিক হকদার কে? রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমার মা।’ সাহাবি জিগ্যেস করলেন, এরপর কে? তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ সাহাবি জিগ্যেস করলেন, ‘এরপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ সাহাবি জিগ্যেস করলেন, ‘এরপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবা।’ (বুখারি : ৫৯৭১)
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা : স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সুসম্পর্কও একটি পুণ্যময় পবিত্র ভালোবাসা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন। যেন তোমরা তার কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের মধ্যে দান করেছেন ভালোবাসা ও মায়া’ (সুরা রুম : ২১)। হাদিস শরিফে বিবৃত হয়েছে, একবার রাসুল (সা.)-এর কাছে জিগ্যেস করা হলো, ‘মানুষের মধ্যে আপনার কাছে অধিক প্রিয় কে?’ তিনি বললেন, ‘আমার স্ত্রী আয়েশা।’ (ইবনে মাজা : ১০১)
মুসলমানের প্রতি ভালোবাসা : মুমিনগণ একে অপরের ভাই। তাই ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের প্রেম-ভালোবাসা, হামদরদি থাকা চাই। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার মহিমায় যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তাদের জন্য রয়েছে নূরের মিম্বর। নবী-শহিদরাও তাদের ঈর্ষা করবে।’ (তিরমিজি : ২৩৯০
প্রাণিকুলের প্রতি ভালোবাসা : মানুষের মতো জীবজন্তুর প্রতি ভালোবাসা রাখার নির্দেশও ইসলাম দিয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, সাহাবিরা জানতে চাইলেন, ‘জীবজন্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শনের জন্যও কী আমাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে?
রাসুল (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রত্যেক দয়ার্দ্র হৃদয়ের অধিকারীর জন্যই পুরস্কার রয়েছে’ (বুখারি : ৫৬৬৩)। মহান আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করুন ও বুঝে আমল করার তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/এনএ