জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাংকের সেবা সহজ করতে ২০১৩ সালে চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং। সেই

2026-02-16T03:08:13+00:00
2026-02-16T03:08:13+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাংকের সেবা সহজ করতে ২০১৩ সালে চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং। সেই সেবা এখন শুধু শহরে নয়, পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সারা দেশে। 

যেখানে গ্রাহকরা হাতের কাছে পাচ্ছেন ব্যাংকিং সেবা, নিতে পারছেন ঋণও। দেশের ব্যাংক খাতের নানা চাপ ও চ্যালেঞ্জ থাকার পরও মানুষের আকর্ষণ ধরে রেখেছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা, বাড়ছে আস্থা ও বিশ্বাস। গত এক বছরে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৫৫ হাজার। 

অন্যদিকে আমানত বৃদ্ধি ও ঋণ বিতরণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। এই সেবার ছোঁয়ায় নতুন সম্ভাবনার পথ খুলেছে, যেখানে প্রতিটি ধাপে দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন ও উন্নয়নের ছোঁয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ২৩০ জন কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বের তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৮১। এক বছরে গ্রাহক বেড়েছে ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।

--২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ২৩০
--২০২৫ সালের ডিসেম্বের তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৮১
--এক বছরে গ্রাহক বেড়েছে ১৭ লাখ ৫৫ হাজার
--২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ২৪ হাজার ২৮ কোটি
--এক বছর পেরিয়ে তা বেড়ে ৩৫ হাজার ২৩ কোটি টাকা হয়েছে
--ঋণ বিতরণ এক বছরে বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা
--আমানত বৃদ্ধি ও ঋণ বিতরণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে
--প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন তথা টাকা জমা দেওয়া ও তোলার জন্য সাধারণ মানুষকে এখন আর জেলা কিংবা উপজেলা শহরে যেতে হয় না। হাতের নাগালেই পাচ্ছে ব্যাংকিং সুবিধা। সহজেই ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে ও তুলতে পারছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ও আউটলেট থেকে ঋণ সুবিধাও পাচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত ও ঋণ বিতরণ সবই বেড়েছে।

তথ্য বলছে, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও চমক দেখিয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ২৪ হাজার ২৮ কোটি। এক বছর পেরিয়ে তা বেড়ে ৩৫ হাজার ২৩ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, ঋণ বিতরণ এক বছরে বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরফান আলী বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালুর উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা। এ ছাড়া এই সেবার মাধ্যমে কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দেওয়া হয়। এতে কিছু ব্যাংক সফলতাও পেয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক।

তিনি আরও বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং শুধু আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যম নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার একটি কার্যকর পথ। এই ব্যাংকিং শুধু শুরু নয়, এখন এর ভরসা হয়ে উঠতে পারাটাই হবে বড় অর্জন।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সফলতা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু থেকেই গ্রামীণ মানুষের প্রতি ফোকাস করে আসছে। ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় তারা ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এতে গ্রামীণ মানুষ সহজেই মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের বাকি নিয়ম মেনে এজেন্ট ব্যাংকিং এগিয়ে যেতে পারলে গ্রামীণ অঞ্চল সামষ্টিক অর্থনীতিতে বেশ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৪১ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। বৃদ্ধির পরিমাণ ৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে এই উন্নয়ন ও উত্থানের পেছনে রয়েছে কিছু হতাশা। প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে এজেন্ট ও আউটলেট দুটিই কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই ব্যাংকিং সেবায় এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ২১টি, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৭টি। সেই হিসাবে এক বছরে এজেন্ট কমেছে ৬৯৪টি। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আউটলেট ছিল ২১ হাজার ২৪৮টি, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ২০ হাজার ৫০১টি। সেই হিসাবে এক বছরে আউটলেট কমেছে ৭৪৭টি। তবে সেবা খাতে ব্যাংকের স্থিতি ৩১টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এই সেবার মূল লক্ষ্যই ছিল ব্যাংক থেকে দূরে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো, তা এখন সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। নতুন উদ্যোগ ও সেবার মাধ্যমে গ্রাহক ও লেনদেন আরও বাড়বে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে এখন বীমা সুবিধা চালু হচ্ছে। এতে গ্রাহক সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   এজেন্ট  ব্যাংকিং 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: