মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীন ইরান গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে ইরানি বাহিনী প্রণালীর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। “নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্বেগের” কারণ দেখিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য নৌপথটি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। তবে বাস্তবে পুরোপুরি নৌচলাচল বন্ধ হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
এটি প্রথমবার, যখন ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ বন্ধের ঘোষণা দিল—বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে।
খামেনির কড়া সতর্কবার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও এমন আঘাত পেতে পারে যে তারা আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধজাহাজ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সেটিকে ধ্বংস করার সামর্থ্যও বিদ্যমান।
জেনেভায় আলোচনা
জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে বলেন, একটি টেকসই ও আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের জন্য নতুন জানালা খুলেছে।
আরাগচি জানান, তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সম্ভাব্য চুক্তিতে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে চাপ দিয়ে আসছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি অঞ্চলে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-এর সঙ্গে যোগ দেবে।
তেলের বাজারে প্রভাব
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা দেখা যায়। তবে আলোচনা এগোচ্ছে—এমন প্রত্যাশায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তার আগে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি একটি ধাপ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে পারে। ইরান বরাবরই দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
বর্তমানে পরিস্থিতি এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যে দাঁড়িয়ে—একদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টা। বিশ্বজুড়ে নজর এখন এই প্রশ্নে যে উত্তেজনা কি বাড়বে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুলবে?
/ইউএমএইচ