পাক বাহিনীর অভিযানে ‘ভারত সমর্থিত’ ৪৮ সশস্ত্র সদস্য নিহতের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারত-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৮

2026-09-04T21:33:51+00:00
2026-09-04T21:33:51+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পাক বাহিনীর অভিযানে ‘ভারত সমর্থিত’ ৪৮ সশস্ত্র সদস্য নিহতের দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম 
পাক বাহিনীর অভিযানে ৭২ ঘণ্টায় ‘ভারত সমর্থিত’ ৪৮ সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে। সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারত-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।

দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আইএসপিআর জানায়, বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত ও সিবি এলাকায় ‘ভারতীয় মদদপুষ্টদের’ বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে ৩৬ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর মাস্তুংয়ে একটি অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের গতিবিধি শনাক্ত করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরে তাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। তীব্র গোলাগুলির একপর্যায়ে ছয় ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এ ছাড়া কোয়েটা জেলার শাবান এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইএসপিআরের দাবি, সেখানে ‘খাওয়ারিজদের’ চারটি আস্তানা শনাক্ত করে নিরাপত্তা বাহিনী এবং অভিযানে ২৬ জন নিহত হয়।

কালাতেও একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দুই ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’কে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানি বাহিনী।

অন্যদিকে সিবি জেলার ভাগ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা বাহিনী ভাগ পুলিশ স্টেশনে হামলার একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। এ সময় গোলাগুলিতে আরও দুই ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।


পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূলের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

পাকিস্তান বেলুচিস্তানের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে—বিএলএ ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে, টিটিপি ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত করে থাকে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, এই দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নয়াদিল্লি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে পাকিস্তানে সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই দুই প্রদেশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে সহিংসতায় নিহতদের প্রায় ৯৬ শতাংশই এই দুই প্রদেশের। মোট নিহতদের মধ্যে ৬১ শতাংশের বেশি অর্থাৎ ৪৭৫ জন খাইবার পাখতুনখোয়ায় এবং ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৬৫ জন বেলুচিস্তানে নিহত হয়েছেন।

সহিংসতার ঘটনার সংখ্যাতেও এগিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া। সেখানে ১৫১টি ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে মোট ঘটনার ৫৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে বেলুচিস্তান, যেখানে ৯৪টি ঘটনা বা মোট ঘটনার ৩৫ শতাংশ ঘটেছে। এসব পরিসংখ্যান দুই প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের ঘনত্বের বিষয়টি তুলে ধরছে।



সময়ের আলো/ইউএমএইচ




  বিষয়:   ভারত  পাকিস্তান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: