নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ৯ দিন পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন দুই শ্রমিক। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নুয়াকোটের ‘ত্রিশূলী-৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুজনের একজন সঞ্জয় শাহ। পেশায় মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় দুর্ঘটনার সময় প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলেন। বন্যা ও ভূমিধসের খবর পেয়ে তিনি প্রথমে অন্য শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে নিজের বের হওয়ার সুযোগ হারিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতর আটকা পড়েন তিনি।
সঞ্জয় বলেন, ‘আমি নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলাম। সবাইকে নিরাপদে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনার মূল দায়িত্ব ছিল আমারই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবাইকে দৌড়ে চলে যেতে বলেছিলাম। সেটি করতে গিয়েই আমার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে আমি আর নিজে বের হতে পারিনি।’
সুড়ঙ্গে আটকে থাকার নয় দিন উদ্ধারকারীদের অপেক্ষায় ছিলেন সঞ্জয়। এ সময় ঈশ্বরকে স্মরণ করছিলেন বলে জানান তিনি। কাছাকাছি থাকা আরও তিন থেকে চারজনের উপস্থিতি ও কণ্ঠস্বর টের পেয়েছিলেন বলেও জানান সঞ্জয়।
তিনি বলেন, ‘খুব কাছাকাছি থাকা মাত্র তিন বা চারজনের সঙ্গে আমরা কথা বলে বা শব্দ করে যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম।’
তবে সুড়ঙ্গের আরও গভীরে, বিশেষ করে পাওয়ার হাউসের কাছে আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তার ধারণা, বন্যার তীব্র স্রোতে কেউ কেউ সুড়ঙ্গের আরও ভেতরে ভেসে যেতে পারেন।
গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। এর নয় দিন পর সঞ্জয়ের সঙ্গে কাঠমান্ডুর বাসিন্দা কবির মহারজনকেও জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।
সময়ের আলো/এমকে