ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত আলি আল-তাহের রিজ বা পাহাড়ি এলাকায় সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান নেওয়া হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সরিয়ে দিয়েছে। তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েল আগে থেকেই বলে আসছিল, আলি আল-তাহের রিজের নিচে থাকা সুড়ঙ্গগুলোতে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা অবস্থান করছে। এই পাহাড়ি এলাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় এটি অন্যতম তীব্র সংঘর্ষের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। জুনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও এলাকাটি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত ছিল।
রয়টার্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, গত মাসে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল যে, পাহাড়ি এলাকাটিতে থাকা তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর অবস্থানের ওপর ইসরায়েল হামলা চালালে তারা কঠোর জবাব দেবে।
বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা জানানোর পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং সুড়ঙ্গগুলো সন্ত্রাসীদের থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কয়েকজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং অন্যরা পালিয়ে গেছে।
হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। রিজটির বর্তমান পরিস্থিতিও রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ধারণা করা হয়, শিয়া মুসলিম সংগঠন হিজবুল্লাহ ওই পাহাড়ি এলাকার নিচে একটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলেছিল। সংগঠনটি এর আগে বলেছিল, ইসরায়েল ওই এলাকায় হামলা চালালে তারা প্রতিরোধ করবে।
ইসরায়েল পাঁচজন লেবানিজ আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছে
মার্চে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
শুক্রবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ চারজন আটক ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মাধ্যমে লেবাননের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার আরও একজন লেবানিজকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে এই পাঁচজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, মুক্তি পাওয়া পাঁচজনের কারও সঙ্গেই কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
লেবাননে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা লেবানিজ নাগরিকদের নিয়ে কাজ করা একটি কমিটি জানিয়েছে, গত ছয় মাসে ইসরায়েল লেবাননের ভেতর থেকে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর মুক্তি পেয়েছেন, আবার কেউ এখনো ইসরায়েলি হেফাজতে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) শুক্রবার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দেখা করার সুযোগ হয়নি।
সংস্থাটি বলেছে, লেবাননে এখনো বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্য সম্পর্কে উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে— তারা আটক আছেন, মারা গেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে নিখোঁজ রয়েছেন, তা তারা জানেন না।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুক্রবার বলেছেন, চলতি সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা হলো “প্রথম দল”, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে আরও মানুষকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন ১৯৮০-এর দশকে লেবাননে নিহত কয়েকজন ইহুদি ব্যক্তিত্বের মরদেহের দেহাবশেষও ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে কারা এর অন্তর্ভুক্ত এবং কবে তাদের দেহাবশেষ হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/ইউএমএইচ