চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিদেশি তৈরি ড্রোন ও যন্ত্রাংশে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
নতুন নিয়মে ২৫ কেজির বেশি ওজনের বা থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোনে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এসব ড্রোনের বড় অংশ চীনে তৈরি হয়। দাবানল পর্যবেক্ষণ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এগুলো ব্যবহার করা হয়। ছোট ও কম প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোনে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ।
তবে কয়েকটি মিত্রদেশকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও তাইওয়ান থেকে আমদানি করা ড্রোন ও যন্ত্রাংশে ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বসবে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তিতে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের বাণিজ্যিক ড্রোন বাজারে চীনের শেনজেনভিত্তিক ডিজেআইয়ের বড় আধিপত্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ড্রোনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি তৈরি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দেশে পর্যাপ্ত বিকল্প না থাকায় পুলিশ, দমকল বাহিনী, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে ড্রোনের ব্যয় বাড়বে।
চীনও সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করে বলেছে, এতে অবাধ প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে বিদেশি তৈরি কিছু ড্রোনের নতুন মডেল বিক্রিতে আরও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন।
সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস
সময়ের আলো/এমকে