এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এমনকি এটি পর্যবেক্ষণ শুরুর পর রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এমন সতর্কতা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো স্থায়ী থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। সংস্থাটি বলছে, এল নিনো এত দীর্ঘ সময় ধরে থাকার বিষয়ে এবারই প্রথম এতটা নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এটি পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। পরিস্থিতি এতটাই ব্যতিক্রমী যে এটি প্রচলিত পূর্বাভাসের সীমাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এল নিনো হলো পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এ ঘটনা ঘটে এবং এর প্রভাব প্রায় ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপমাত্রার চরম ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
এবারের এল নিনো ইতোমধ্যে ‘অতি শক্তিশালী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ১৯৫০ সাল থেকে সংরক্ষিত রেকর্ডে এ ধরনের অতি শক্তিশালী এল নিনোর ঘটনা মাত্র তিনবার ঘটেছে। ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়েছে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যে খাদ্য উৎপাদনেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্য আমেরিকার ‘ড্রাই করিডোর’ এলাকায় ব্যাপক ফসলহানির কারণে খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কৃষিপণ্যও এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তবে এর প্রভাব ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকবে। এমনকি এল নিনোর কারণে আগামী বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর জলবায়ু পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইলফ্রান মুফুমা ওকিয়া বলেন, এল নিনোর পর সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রায় সাময়িক ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। ২০২৪ সাল ছিল এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ বছর। তবে ২০২৭ সাল সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো আমাদের চোখের সামনেই আরও বড় আকার ধারণ করছে। বিজ্ঞান এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের সুযোগ রাখছে না— পৃথিবী এমন এক পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে, যেখানে সমুদ্রের পানিও ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি কার্যক্রম জোরদার করছে ডব্লিউএমও। সংস্থাটি জানিয়েছে, খরা-সহনশীল ফসলের ব্যবহার বাড়ানোসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করা হবে।
কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানিসম্পদের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোতে ঝুঁকি কমাতে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সময়ের আলো/কেএইচ