ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কোনো সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পাশে নাও দাঁড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন অবস্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে ব্রিটেন তাঁকে সহায়তা করেনি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্রিটিশ সহায়তার প্রয়োজনও ছিল না।
ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থান পরিবর্তন করা হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ফকল্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ভূখণ্ডগত বিরোধ তৈরি হলে ব্রিটেনের পাশে থাকবেন কি না, জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প ১৯৮২ সালের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পাশে ছিল। তবে ফকল্যান্ড অনেক দূরে হওয়ায় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে কী করা হবে, তা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেননি।
এরপর ইরানের সঙ্গে বর্তমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প ব্রিটেনের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনের সময় ব্রিটেন সেখানে ছিল না। তিনি বলেন, ন্যাটোর কাছেও তিনি সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং ব্রিটিশ নেতৃত্বকে কয়েকটি জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য পাঠানোর মতো কোনো জাহাজ তাদের কাছে ছিল না। বিষয়টিকে ‘খুবই দুঃখজনক’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধ হয়। আর্জেন্টিনার সেনারা দ্বীপপুঞ্জে অবতরণ করার পর ব্রিটিশ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, তিনজন দ্বীপবাসী ও ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন।
এর আগে ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সব অবস্থানই পর্যালোচনা করেন এবং ফকল্যান্ডও সেই বিষয়গুলোর একটি।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা ব্রিটিশ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদের রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্রও বলেছেন, দ্বীপবাসীরা বারবার ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার ইচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাদের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের প্রতিশ্রুতি অটুট।
২০১৩ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত গণভোটেও বাসিন্দারা বিপুলভাবে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দেন। ভোটারদের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ এ অবস্থানের পক্ষে ছিলেন।
সময়ের আলো/টিকে