ইরান যুদ্ধে অন্ধকার ভবিষ্যৎ, ২০২৭ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে থাকছে মার্কিন সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থানও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ২০২৭

2026-09-04T08:36:01+00:00
2026-09-04T08:36:01+00:00
 
  শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধে অন্ধকার ভবিষ্যৎ, ২০২৭ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে থাকছে মার্কিন সেনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থানও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ২০২৭ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সময় বাড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে শুরুতে স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত সফলতা অর্জনের সামরিক অভিযান হিসেবে যে যুদ্ধকে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন রয়েছে।

Advertisement
যুদ্ধজাহাজের নাবিক, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ও প্যারাট্রুপারদের মধ্যপ্রাচ্যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর মোতায়েনের মেয়াদ নয় মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করা হয়েছে। ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো কিছু ইউনিটও এক বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে অবস্থান করছে।

দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকায় মার্কিন সেনাসদস্য, তাদের পরিবার এবং সামরিক সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীতেও একই ধরনের চাপ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি ও ১৩টি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার।

যুদ্ধ শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক ও ইউএসএস স্প্রুয়েন্স এখন অবরোধ কার্যকরে ভূমিকা রাখছে। প্রায় ৩০০ সদস্যের এসব যুদ্ধজাহাজের ক্রুরা বিরতি নেওয়ার পরিবর্তে টানা কয়েক মাস সমুদ্রে অবস্থান করছেন।

এদিকে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপের কারণে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন আশা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করার বিষয়েও ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ার কারণে তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ইরানের জনগণ কবে উঠে দাঁড়িয়ে লড়াই করবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নির্বাচনের ফলাফল তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন না।

সেনাদের ওপর বাড়তি চাপ থাকলেও ইরানে আরও হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে বুধবার সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘যেকোনো সময়’ ইরানে আরও হামলা চালাতে পারে।

ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: