ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তার কোনো সম্ভাব্য সময়সীমা জানাতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বরং হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি চলমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে কোনো গোলাগুলি চলছে না।’ তবে এরপরই তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন স্থানে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে।
ভ্যান্সের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিন ধরে তীব্র হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। তিনি দাবি করেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান প্রায় ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছে এবং এতে ইরানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধ কবে শেষ হবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি যখন জিজ্ঞেস করছেন, এটি কখন শেষ হবে, তখন আসলে জানতে চাইছেন—ইরানিরা জাহাজে গুলি চালানো কখন বন্ধ করবে? এ প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না। এ বিষয়ে ইরানিদেরই জিজ্ঞেস করতে হবে।’
চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ভ্যান্সের অভিযোগ, ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার পরিবেশ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেওয়ার নতুন একটি চুক্তিও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিত্র দেশগুলো যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট সহায়তা করছে না বলেও সমালোচনা করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি।
এদিকে ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন ভ্যান্স। তিনি জানান, ঘটনাটি মার্কিন সামরিক বাহিনী তদন্ত করছে। তবে ইরান সরকারের দেওয়া তথ্যের ব্যাপারে তিনি ‘অত্যন্ত সন্দিহান’ বলে মন্তব্য করেন।
ইরানের দাবি, ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, অতীতেও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র দায় অস্বীকার করেছে।
ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ৭৫০ জন আহত হয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে এক নিহত মার্কিন সেনার স্ত্রী পূর্ণ সামরিক সুবিধা না পাওয়ার বিষয়েও ভ্যান্সকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। নিহত বিমানবাহিনীর মেজর জন ‘অ্যালেক্স’ ক্লিনারের স্ত্রী লিবি ক্লিনার আগস্টে অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করায় তাদের প্রাপ্য সুবিধা আটকে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, ব্রিফিং শেষে তিনি ওই নারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্যই তারা গভীরভাবে শোকাহত।
সময়ের আলো/কেএইচ