নেপালে হড়পা বান বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পর কেঁপে উঠল হিমালয়। তিব্বতে বৃহস্পতিবার অনুভূত হয়েছে জোরালো কম্পন। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহতের ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে নতুন ভূমিকম্পে নেপালে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতি আবার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৪৬ মিনিটে তিব্বতে ভূমিকম্প হয়েছে। কম্পনের উৎস ছিল মাটি থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
গত ২৬ অগাস্ট জিরং সীমান্তের কাছে আকস্মিক বন্যার পর তিব্বতে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজ চলার মধ্যেই হল এই ভূমিকম্প।
এর আগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পার্বত্য অঞ্চলের একটি বিশালাকার হিমবাহ ও তার তলদেশের শিলাস্তর ভেঙে লেহন্দে খোলা নদীর ওপর আছড়ে পড়েছিল। সেই ধসের প্রভাবে ২৭ অগাস্ট ভূকম্পন যন্ত্রে ৫ দশমিক ২ মাত্রার তরঙ্গ ধরা পড়েছিল। তবে সেটি ভূমিকম্প ছিল না।
তবে বৃহস্পতিবারের ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি প্রকৃতই ভূগর্ভস্থ ভূকম্পন। এক সপ্তাহ আগের মহাবিপর্যয়ের পর নতুন করে এই ভূমিকম্প গোটা সীমান্ত অঞ্চলেই ফের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৬ অগাস্টের হিমবাহ ধস ও হড়পা বানে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৭৩ জনে।
নেপালে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১,২৫২, নিখোঁজের সংখ্যা ৪,২১৬। চীনের তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ ৫৪১ জন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পাহাড়ি সড়ক ও সেতুগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় দুর্গম গ্রামগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি নেপালের ঐতিহ্যবাহী কুলি বা পোর্টারদের সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নেপালে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটক পড়া কর্মীদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ও ড্রিলিং মেশিন ব্যবহার করে সেনাসদস্যদের উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/টিকের