নিজেকে বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন— এমন ঘটনা জানার পর প্রথমে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন ভারতের পুনের উদ্যোক্তা সাক্ষম গৌর। তবে পরে জানতে পারেন, তাকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা নয়; বরং ছোটখাটো সিদ্ধান্তে তাকে না জড়িয়েই কাজ পরিচালনার জন্য ওই গ্রুপ তৈরি করেছে তার কর্মীরা।
মেট্রো মিডিয়া হাউসের প্রতিষ্ঠাতা সাক্ষম গৌর সম্প্রতি লিংকডইনে ঘটনাটি শেয়ার করেন। তিনি জানান, কর্মীদের ওই গোপন গ্রুপের কথা জানার আগের দিনই তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের দলের প্রশংসা করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, কাজের অনেক ক্ষেত্রেই তার দলের সদস্যরা তার চেয়ে বেশি দক্ষ।
এর পরদিন কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটির নাম দেখে তার মনে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়। গ্রুপটির নাম ছিল ‘এমএমএইচ এক্স সাক্ষম’। প্রথমে তার মনে হয়েছিল, হয়তো তাকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু আলোচনা করতেই গ্রুপটি খোলা হয়েছে।
কিন্তু পরে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানতে পারেন তিনি। গৌরের ভাষ্য, দলের সদস্যরা সেখানে কোন কাজ শেষ হয়েছে, কোন কাজ বাকি রয়েছে এবং কী কী সমস্যা সমাধান করা দরকার— এসব নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর তারা নিজেরাই ঠিক করেন, কোন বিষয়গুলোতে প্রতিষ্ঠাতার পরামর্শ বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
যেসব বিষয়ে গৌরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই, সেগুলো কর্মীরাই নিজেদের মধ্যে সমাধান করেন।
এ কারণেই কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রায়ই তিনি একই ধরনের উত্তর পান—‘কিছু না, সাক্ষম। সব ঠিক হয়ে গেছে।’
গৌর বলেন, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তিনি মজা করে নিজেকে ‘বিশ্বাসঘাতকতার শিকার’ মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন, এটি আসলে কার্যকর নেতৃত্ব ও সঠিকভাবে কর্মী নিয়োগের ইতিবাচক উদাহরণ।
তার মতে, একজন প্রতিষ্ঠাতার কাজ প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় সারাজীবন নিজে পরিচালনা করা নয়। বরং এমন একটি দক্ষ দল তৈরি করা, যারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে এবং সমস্যা সমাধান করতে পারে— সেটিই সফল নেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য।
গৌরের কাছে কর্মীদের আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তাই বাদ পড়ে যাওয়ার ঘটনা নয়; বরং দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার সফল উদাহরণ। কর্মীরা নিয়মিত কাজ নিজেরাই সামলে নেওয়ায় তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণসহ বড় বিষয়গুলোতে বেশি সময় দিতে পারছেন।
শেষ পর্যন্ত গৌরের উপলব্ধি, প্রতিষ্ঠাতাকে বাদ দিয়ে কোনো কর্মী গ্রুপ পরিচালিত হওয়া মানেই তাকে উপেক্ষা করা নয়। বরং সেটি হতে পারে প্রমাণ যে, দলটি ঠিক সেভাবেই কাজ করছে, যেভাবে একজন দক্ষ নেতৃত্বের অধীনে তাদের কাজ করার কথা।
সময়ের আলো/কেএইচ