বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় ১২ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ছবি : ডন বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ জন ‘সশস্ত্র সদস্যকে’ হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর, আইএসপিআর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর-এর দাবি, নিহতরা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্য এবং তারা ভারতের মদদপুষ্ট। বুধবার কালাত জেলায় সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থানের খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে।
বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় সশস্ত্র সদস্যদের একটি গোপন আস্তানা শনাক্ত করে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আস্তানাটি ধ্বংস করা হয় এবং সেখানে থাকা ১২ জন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও হাতে তৈরি বিস্ফোরক উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইএসপিআর।
এলাকায় আরও কোনো ‘ভারত সমর্থিত সশস্ত্র সদস্য’ অবস্থান করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান ও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানের চলমান ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কালাতের অভিযানে ১২ জন নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেছেন। তারা দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে বেলুচিস্তানের ভাগ শহরে পুলিশ স্টেশন, একটি ব্যাংক ও সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে সমন্বিত হামলার চেষ্টা চালিয়েছে প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র সদস্য। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাটি ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী শাহিদ রিন্দের দাবি, হামলাকারীরা ভারী অস্ত্র, রকেট লঞ্চার, মেশিনগান, স্নাইপার রাইফেল ও হাতবোমা ব্যবহার করে তিনটি স্থাপনায় হামলা চালায়।
পুলিশ সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হামলাকারীদের প্রতিরোধ করেন। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তারা পুলিশ স্টেশন দখল কিংবা সেখান থেকে অস্ত্র লুট করতে পারেনি। ব্যাংক থেকেও অর্থ লুটের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও তিন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ব্যাংকে পুঁতে রাখা একটি হাতে তৈরি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করেন।
বেলুচিস্তানে বাড়ছে হামলা
কালাতের অভিযান ও ভাগের হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র সদস্য কর্মকাণ্ড বেড়েছে।
৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে পিশিন জেলায় একটি কাস্টমস হাউসে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সদস্যরা হামলা চালায়। আইএসপিআরের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১০ সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়। তবে গোলাগুলিতে দুই কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হন।
এ ছাড়া ৩১ আগস্ট চাগাই জেলার নকচা এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য অবৈধ চেকপোস্ট স্থাপনের অভিযোগে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানায় পাকিস্তানি বাহিনী। একই দিনে ওয়াশুক জেলায় আরেক অভিযানে দুই সশস্ত্র সদস্য নিহত হয় বলেও দাবি করা হয়।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের মাসিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগস্টে বেলুচিস্তানে ৮৯টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ৮৩টি। অর্থাৎ এক মাসে হামলার সংখ্যা ৭ শতাংশ বেড়েছে।
তবে কালাতের অভিযানে নিহতদের ভারত-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্য হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি; এর স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ