ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৮১ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে হুথিরা স্থল হামলার পাশাপাশি রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র।
সংঘর্ষে উপকূলীয় বাহিনীর ২৪ সদস্য এবং তাইজ এলাকায় আরও ১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, তাদের ৪২ সদস্য নিহত হয়েছেন।
হুথিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার মুখে থাকা সরকারি নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী মোখা বিচ্ছিন্ন করে বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর খোখা, তাইজ শহর এবং সরকারি বাহিনীর অবস্থানের ওপর নজর রাখা কয়েকটি উঁচু এলাকা দখল করেছে বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এসব উঁচু অবস্থান থেকে হুথিরা জাহাজে হামলা চালাতে পারে।
হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের নির্দেশে রাজধানী আদেন থেকে তাইজে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ইয়েমেনের সরকার।
বাব আল-মান্দাব প্রণালিটি লোহিত সাগরকে সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর এবং অন্যদিকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
হুথিরা বর্তমানে বাব আল-মান্দাবের সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ন্ত্রণ না করলেও মোখার উত্তরে গুরুত্বপূর্ণ হোদেইদা বন্দর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ে হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। এরপর হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ ঘোষণা করে এবং দেশটির জাহাজ ও ভূখণ্ডে হামলা শুরু করে। ফলে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ