চলতি সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। এদিন ডিএসইতে ৯০০ কোটি টাকার ঘরে ছিল লেনদেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল।
জানা যায়, নির্বাচনের আগে দুই কার্যদিবস ও নির্বাচন পরর্বতী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজারে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধি হয়েছিল। এর মধ্যে নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে বড় দর বৃদ্ধি হয়েছে। এরপর আজকের লেনদেনসহ থেকে টানা তিন দিন অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। মূলত নির্বাচন পূর্ববর্তী দুই কার্যদিবস ও পরবর্তী এক কার্যদিবসে শেয়ারে যে মুনাফা সঞ্চয় হয়েছে তা তুলে নিতে শেষ তিন দিন বিক্রি বাড়ানোর চাপ দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিট বিক্রয়ের তুলনায় ক্রয় বেশি হওয়ায় সূচকও ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। তবে এরপরই বিক্রয়ের চাপ বাড়তে থাকে। এতে অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন হওয়ার পাশাপাশি সূচকও নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দিন শেষে মাত্র ৮২টি শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ানোর তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হলেও দাম কমার তালিকায় রয়েছে ২৮৬টি। আর ২৫টির দাম দিন শেষে অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে নেমে গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিক্রির চাপে এই দরপতন হয়েছে। ভোটের আগে দুদিন এবং ভোটের পরের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টানা তিন কর্যদিবসের উত্থানে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেশ বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এই সুযোগে মুনাফা তুলে নিতে গতকালও শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। এ কারণে বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে।
এদিকে সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। এদিন বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৮৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। গত রোববার ও সোমবার ডিএসইতে যথাক্রমে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ১০ লাখ এবং ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।
বুধবার অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪২৯ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২২টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৯ লাখ টাকা।
সময়ের আলো/কেএইচও