ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বিএনপি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। একইদিন বিকাল ৪টায় নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর আলোচনায় এবার সংরক্ষিত নারী আসন, কারা হতে যাচ্ছেন সংসদ সদস্য?
এবারের নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েছেন সাত নারী প্রার্থী। মাত্র ৮১ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের সাফল্যের হার বেশ ইতিবাচক। যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই বিএনপি নেত্রী হলেও একজন দল থেকে বহিষ্কার হয়ে স্বতন্ত্রভাবে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয় লাভ করেছেন। তিনি হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে রুমিন ফারহানা।
এছাড়া বিএনপি থেকে অন্য যে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন- মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর ও জেলা সদরের ৮ ইউনিয়ন) আসনে আফরোজা খানম, ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা), নাটোর-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফরিদপুর–৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।
এদের বাইরেও অনেক নারী নেত্রী এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিএনপি এককভাবে ২০৯ টি আসনে বিজয়ী হওয়ার কারণে তারা ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবেন। সেক্ষেত্রে কারা এই আসনগুলিতে মনোনয়ন পাবেন তা নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর। তবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীরা বলছেন, বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে যেসব নারীরা রাজপথে ছিলেন তারাই এই ৩৫ আসনের দাবিদার।
মহিলা দলের নেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী এক গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৮ বছর রাজপথে ছিলাম, দলের জন্য কাজ করেছি। হামলা-মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আশা করি, দলের চেয়ারম্যান আমাদের মূল্যায়ন করবেন।
৯০ এর দশকে বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে ছিলাম মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেই থেকে দলের সঙ্গে আছি। পরে মহিলা দলের মহানগর ও কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ছিলাম।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দফতর সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শাহিনুর নার্গিস এ বিষয়ে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন সে বিষয়টি দলের হাইকমান্ড ঠিক করবে। আমরা গত ১৮ বছর রাজনীতির মাঠে ছিলাম। আজীবন বিএনপির সঙ্গে থাকব বলে জানান তিনি।
তবে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মহিলা দলের ত্যাগী নেত্রী ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের জায়গা দেবেন হাই কমান্ড। তাদের সঙ্গে প্রবীণ নেত্রীরাও জায়গা পাবেন।
এদিকে,২০০১ সালে যারা সংক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন তাদের অনেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো রাজনীতির মাঠে আছেন। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ এবারও জায়গা করে নিতে পারেন।
জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান আলোচনায় আছেন। তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি এবং মন্ত্রী ছিলেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। শিরিন সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নবনির্বাচিত ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী আছেন প্রথম কাতারে।
একইসঙ্গে আছেন ইডেন কলেজের ছাত্রদল নেত্রী মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, আছেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লেচু মিয়া) মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।
এ ছাড়াও আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার।
২০০১ সালের সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত এমপি হেলেন জেরিন খান জানান, আমরা ছাত্রজীবন থেকে দলের সঙ্গে আছি। গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবে দল ছেড়ে কোথাও যাইনি। আশা করি, দলের হাই কমান্ড ত্যাগীদের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করবেন কারা সংসদে যাবে।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া। মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধু নিপুন রায় চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্না রায়, মহিলা দল নেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের দাবিদার অন্যরা হলেন- মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর।
আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন। এ ছাড়া, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপার নামও আলোচনায় আছে।
/ইউএমএইচ