গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাস্তবায়ন করাই আমার প্রধান কাজ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তথ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গণমাধ্যম নিয়ে তার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ৩১ দফা ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে স্বাধীন গণমাধ্যমের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা বাস্তবায়ন করাই হবে মন্ত্রী হিসেবে আমার প্রধান কাজ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হয় না। নতুন নতুন তথ্যপ্রযুক্তির কারণে এই স্বাধীনতা চর্চার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিএনপি সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার সময়ের আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ৯ম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের হয়রানি, সাংবাদিকদের পেনশন, পেশার উন্নয়ন, ডিএফপিতে গণমাধ্যমে তালিকাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সময়ের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি
সময়ের আলো : গণমাধ্যম নিয়ে আপনার স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?
তথ্যমন্ত্রী : ইতিমধ্যে অগ্রাধিকার তালিকা করা হয়েছে, সেখানে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশার উন্নয়নসহ নানা বিষয় রয়েছে।
বিগত সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পুলিশি হয়রানি করা হতো, গ্রেফতার করা হতো, বিএনপি সরকার সেটা থেকে বেরিয়ে আসবে কি না?
তথ্যমন্ত্রী : প্রশ্নই ওঠে না। গণমাধ্যম হওয়ার কারণে সরকার কোনো ধরনের হয়রানি করবে না। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে যদি কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, দেশের সরকারপ্রধানও যেমন তার ঊর্ধ্বে না, তেমনই কোনো সাংবাদিকও তার ঊর্ধ্বে না। গণমাধ্যম এই পরিচয়ে হয়রানি করার কোনো প্রশ্নই উঠে না। সেই দিনের অবসান ঘটেছে। অবশ্যই সরকার সবকিছু বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যেই বিবেচনা করবে।
দীর্ঘ দিন ধরে ৯ম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টি ঝুলে আছে, আপনি এটা বাস্তবায়নে কী পদপেক্ষপ নেবেন?
তথ্যমন্ত্রী : আমি আমার মন্ত্রণালয়ের কাজের যে তালিকা করেছি সেখানে অগ্রাধিকারের তালিকায় ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টি রয়েছে।
অনেক দিন ধরেই সাংবাদিকদের পেনশন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে, এটা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না?
তথ্যমন্ত্রী : পেনশনের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। ওয়েজবোর্ড নিশ্চিত হলেই পেনশনের বিষয়টা নিশ্চিত করা যায়। তা না হলে কাকে পেনশন দেব, কাকে দেব না— তার কোনো মানদণ্ড থাকবে না। ওয়েজবোর্ড নিষ্পত্তি হওয়ার পরে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।
ডিএফপিতে গণমাধ্যমের তালিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
তথ্যমন্ত্রী : আমি কেবল বসলাম, অবশ্যই আমরা ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে যেমন তালিকা তৈরি করা দরকার তেমন তালিকাই তৈরি করব।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমডিকে সরানো হয়েছে। এখন টিভিতে কয়েকজন রিপোর্টারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে— এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কী।
তথ্যমন্ত্রী : এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, যেটা একটা সরকারি সংস্থা এবং এখানে নিয়োগ, নিয়োগ বহাল বা বাতিল এসব কিছুরই কিন্তু একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। অবশ্যই সরকার সবকিছু বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যেই বিবেচনা করবে। কারও এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে মব করলেই সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আমরা বারবারই বলছি আমরা একটা প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছি এবং অবশ্যই আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্যে কিন্তু দাঁড়িয়ে আছি।
যদি ব্যক্তিগত কোনো প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত কোনো প্রতিষ্ঠান কাকে চাকরি দেবেন, কাকে চাকরি দেবেন না, কার চাকরি তারা রাখবেন, কার চাকরি তারা রাখবেন না— এটা সম্পূর্ণই তাদের ব্যাপার। তবে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি যেকোনো সাংবাদিক যখন সংক্ষুব্ধ হবেন, আমি চেষ্টা করব সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিকের অধিকার সংরক্ষণ করে এগোনো হচ্ছে কি না, সেটা সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আমার।
এফআর