মাদক ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয়

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মূলত মাদক এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তারের কারণে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা, হেরোইন,

2026-02-20T01:32:09+00:00
2026-02-20T01:46:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
মাদক ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩২ এএম  আপডেট: ২০.০২.২০২৬ ১:৪৬ এএম
প্রতীকী ছবি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মূলত মাদক এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তারের কারণে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা, হেরোইন, কোকেনসহ অন্যান্য মাদক আকাশ, নৌপথ ও সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে। যার মাত্র পাঁচ শতাংশই উদ্ধার হচ্ছে। একইভাবে অনলাইন জুয়ার নেশায় বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্ত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এই দুই অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অনলাইন জুয়া দমনে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সরকারি উদ্যোগ ও রোডম্যাপ : মন্ত্রিপরিষদ গঠনের আগে বিএনপি দেশের প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান জোরদার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজন উপপরিচালক জানিয়েছেন, সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে মাদকের বিরুদ্ধে তাগাদা দেওয়া হয়েছে এবং অধিদফতর তার দিকনির্দেশনার আলোকে কাজ করছে।

ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক : সরকারি, আধা-সরকারি, স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা-২০২৬’ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 

বিধিমালায় বলা হয়েছে, ডোপ টেস্টে মাদক শনাক্ত হলে প্রার্থী চাকরির জন্য অযোগ্য হবেন এবং কর্মরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। আগে থেকেই কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, এনএসআই, মেট্রোরেল, বিসিএস নিয়োগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন বিধিমালা জারির ফলে এটি সবার জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়েছে।

‘সিসা লাউঞ্জ’ বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন : অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ নামক মাদক স্পট বন্ধ, জড়িত কর্মকর্তা শনাক্তকরণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ নামের আড়ালে মাদকের শ্রেণিভুক্ত দ্রব্য সেবন ও কেনাবেচা পরিচালিত হচ্ছে— এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম যুবসমাজ ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি করছে। 

পুলিশ কমিশনার জনাব সাজ্জাত আলী এবং ডিজি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মারুফ হোসেনের নির্দেশনায় ইতিপূর্বে বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করে অনেক মাদক স্পট বন্ধ ও প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাঠ প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পুনরায় এসব মাদক স্পট চালু করে দিচ্ছে। ফলে পূর্ববর্তী অভিযানের সুফল বিনষ্ট হচ্ছে।

আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন, মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগে কোনো প্রকার শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইনগত কোনো বাধা নেই। সিসা বা হুকা মাদকদ্রব্য, তা অবশ্যই আইনের আওতাভুক্ত হবে।

এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও সেবন সবই দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কঠোর শাস্তির বিধান বিদ্যমান। তাই সিসা লাউঞ্জের আড়ালে পরিচালিত মাদক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোনো আইনগত বাধা নেই।

আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে চারটি দাবি জানানো হয়। 

দাবিগুলো হলো— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হোক। বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ ও সব মাদক স্পটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হোক। প্রভাবশালী মাদক কারবারি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। মাদক কারবারে সহায়তাকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশ বাহিনীর জড়িত কর্মকর্তা/সদস্যদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অভিযান-পরবর্তী কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক, যাতে পুনরায় কোনো মাদক স্পট চালু হতে না পারে।

অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ৫০ লাখ মানুষ : দেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও জুয়ার ফাঁদে পড়ছে। এটি দেউলিয়া, পারিবারিক সহিংসতা এবং আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে।

সিআইডি গত বছরের মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। তারা মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টসহ এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে জুয়া লেনদেনে জড়িত থাকার প্রমাণসহ শনাক্ত করেছে। এসব এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়াসংক্রান্ত অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি ও প্রচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য। 

এ ছাড়া জুয়াসংক্রান্ত লেনদেন, প্রতারণা বা জালিয়াতি নিষিদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি : শপথগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দেশের জুয়া ও মাদকের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

এফআর


  বিষয়:   ডোপ টেস্ট  বাধ্যতামূলক  প্রজ্ঞাপন জারি  মাদক  ঠেকাতে  কঠোর  সরকার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: