তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপশাখার মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ ও অগ্রিম ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী এ সময় উপশাখার মাধ্যমে মোট স্থিতিশীল ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা, যা আগের প্রান্তিকের ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা থেকে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ যা উপশাখার তুলনামূলক শক্তিশালী পারফরম্যান্সকে স্পষ্ট করে।
তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও অগ্রিমের মধ্যে উপশাখার মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের অংশ ছিল মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। এর পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় উপশাখার ঋণের অংশ ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা শহরের তুলনায় গ্রামে ঋণ বিতরণে ধীরগতির ইঙ্গিত দেয়।
নারীদের ঋণ অন্তর্ভুক্তিতেও সামান্য মন্থরতা লক্ষ করা গেছে। উপশাখার মাধ্যমে নারীদের কাছে বিতরণ করা ঋণের অংশ ১৫ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে মোট ঋণ হিসাবের মধ্যে নারীদের অংশ ২০ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। তবে ইতিবাচক দিক হলো মোট ঋণ হিসাবের সংখ্যা ২ লাখ ৫ হাজার ৯০৪টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৩৭টি, যা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
অন্যদিকে আমানতের ক্ষেত্রেও উপশাখাগুলোর পারফরম্যান্স খাতের গড় প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। উপশাখার মাধ্যমে সংগৃহীত মোট স্থিতিশীল আমানত ৬৮ হাজার ৭১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭২ হাজার ৫৬ কোটি টাকা হয়েছে, যা ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের মধ্যে উপশাখার আমানতের অংশ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তবে এখানে গ্রামীণ চিত্র কিছুটা দুর্বল। গ্রামীণ আমানতের অংশ ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে যা আমানত সংগ্রহে শহরাঞ্চলের আধিপত্যকে নির্দেশ করে। এর বিপরীতে নারীদের আমানত অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। নারীদের আমানত হিসাবের অংশ ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে। মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা ৬৭ লাখ ৮০ হাজার থেকে বেড়ে ৭২ লাখ ১০ হাজারে, অর্থাৎ ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের আমানত হিসাবের অনুপাত ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যা ধীরগতির হলেও অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে জেলাভিত্তিক তফসিলি ব্যাংকগুলোর সর্বাধিক উপশাখা পরিচালিত হয়েছে ঢাকায় (৯৮৯টি)। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (৪৪৯টি), কুমিল্লা (২১০টি), নারায়ণগঞ্জ (১৬৯টি) ও গাজীপুর (১৬৬টি)।
একই সময়ে ব্যাংকভিত্তিক উপশাখা পরিচালনায় শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি (১ হাজার ২২৫টি)। এরপর রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি (৬৯৩টি), ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (৩১৬টি), ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (২৭১টি) এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসি (২৫২টি)।
সার্বিকভাবে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপশাখাগুলো ঋণ ও আমানত উভয় ক্ষেত্রেই সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের তুলনায় বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে টেকসই ও সুষম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে গ্রামীণ অঞ্চল এবং নারী উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের জন্য ঋণ সম্প্রসারণে আরও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/আরবিএন