যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার কারণ তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে মন্তব্য। ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প মজা করে বলেন, ‘এক পরিবারে দুই তারকার জায়গা নেই।’ তার দাবি, মেলানিয়া এখন ‘বড় মুভি স্টার’ কারণ তার নামে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রেক্ষাগৃহে ভালো ব্যবসা করছে।
‘মেলানিয়া’ শিরোনামের এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ব্রেট র্যাটনার। এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট অভিষেকের আগের ২০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। অ্যামাজন এমজিএম সমর্থিত এই ডকুমেন্টারি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। উদ্বোধনী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আয় ছিল ৭ মিলিয়ন ডলার- ডকুমেন্টারির জন্য শক্ত সূচনা হলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে আয় ৬৭ শতাংশ কমে যায়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এটি গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ডকুমেন্টারি। তার ভাষায়, ‘থিয়েটারগুলো ভর্তি, বিশেষ করে নারীরা বারবার গিয়ে দেখছেন।’ তথ্য বলছে, উদ্বোধনী সপ্তাহে দর্শকের ৭২ শতাংশ ছিলেন নারী এবং ৮৩ শতাংশ ছিলেন ৪৫ বছরের বেশি বয়সি। প্রায় ৭৫ শতাংশ টিকেট ক্রেতা ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। তবে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও কম নয়।
টক শো সঞ্চালক Jimmy Kimmel ছবিটিকে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের ‘ঘুষ’ বলে আখ্যা দেন, ইঙ্গিত করেন এটি বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা হতে পারে। সমালোচক ও দর্শক রেটিংয়ের ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রটেন টম্যাটোজে সমালোচকদের স্কোর মাত্র ১১ শতাংশ, অথচ দর্শক স্কোর ৯৮ শতাংশ, যা তাদের ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান।
কিছু বিশ্লেষক সন্দেহ প্রকাশ করেন, অনলাইন রেটিং কি রাজনৈতিক সমর্থকদের দ্বারা প্রভাবিত? তবে রটেন টমেটোজের মূল প্রতিষ্ঠান জানায়, এখানে প্রদর্শিত দর্শক রিভিউ ‘ভেরিফায়েড’ অর্থাৎ, টিকেট কেনার প্রমাণ রয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘মেলানিয়া’ শুধু একটি ডকুমেন্টারি নয়, এটি হয়ে উঠেছে সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ব্যবসার মিলিত বিতর্কের কেন্দ্র। চলচ্চিত্রটি এখনও প্রেক্ষাগৃহে চলছে এবং পরে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে স্ট্রিমিংয়ের জন্য উন্মুক্ত হবে।
সময়ের আলো/এসকে/