গাজা শান্তি পর্ষদের বৈঠকে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিবাদন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে একজন ‘তরুণ ও সুদর্শন ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, তরুণ এবং সুদর্শন হওয়া সব সময়ই ভালো। তবে তার মানে এই নয় যে, আমাদের আপনাকে পছন্দ করতে হবে। আমি তরুণ ও সুদর্শন পুরুষদের পছন্দ করি না। আমি পছন্দ করি নারীদের। পুরুষদের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই।
এর আগে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেন। বৃহস্পতিবার এই শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী পর্বে ট্রাম্প নিজের প্রশংসা, অন্যদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ও হুমকি দেওয়ার নিজের রীতি অনুসরণ করেননি। তিনি উপস্থিত বিশ্বনেতাদের গুণগান গেয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছিল, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্ভবত বেশ দীর্ঘ হবে। কারণ তিনি মূলত পূর্বনির্ধারিত পাণ্ডুলিপির বাইরে গিয়ে তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরের সাফল্য নিয়ে আলোচনা করছেন। তা না করে তিনি একে একে সভায় উপস্থিত বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানান। তাদের প্রশংসা করেন এবং ক্ষমতা ও সৌন্দর্যের তারিফ করেন।
অতীতে ট্রাম্প বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করলেও সাধারণত তিনি ‘গুড-কপ, ব্যাড-কপ’ কৌশল অবলম্বন করেছেন। স্বার্থ অনুযায়ী কখনো প্রশংসা, কখনো হুমকি। তবে বৃহস্পতিবার উপস্থিত নেতারা ট্রাম্পকে তার সবচেয়ে আন্তরিক রূপেই দেখেন। এমনকি উপস্থিত কিছু নেতার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার কোনো ইঙ্গিত ছিল না।
একেবারের হুমকি ধমকি দেননি সেটাও বলা যাবে না, যারা বৈঠকে অংশ নেননি, তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমার সঙ্গে চালাকি করা যাবে না।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ট্রাম্প ফোরাম গঠন করেন। যা তিনি বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চান। তবে তাতে যোগ দিতে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মিত্র অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি জাতিসংঘের কাজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে পারে।
প্রসঙ্গত, প্যারাগুয়ের ৫২তম এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি সান্তিয়াগো পেনার জন্ম ১৯৭৮ সালে। ৪৭ বছর বয়সি এই অর্থনীতিবিদ একজন সুদর্শন, মার্জিত ও ক্যারিশম্যাটিক তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বেশ পরিচিত।
তিনি ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার ব্যক্তিত্বে আধুনিক ও পেশাদার রাজনীতিকের ছাপ স্পষ্ট। তারুণ্যদীপ্ত চেহারা এবং সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি প্যারাগুয়ের রাজনীতিতে তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
সময়ের আলো/এসকে/ আআ