যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার সাম্প্রতিক রেকর্ডে সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে সামান্য বেড়েছে। তবে একই সময়ে কংগ্রেসের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন বাড়ছে। ফলে রিপাবলিকান পার্টির জন্য নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের প্রতি সন্তুষ্ট। আগস্টের শেষের জরিপে এই হার ছিল ৩৩ শতাংশ, যা ছিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের জনপ্রিয়তার সর্বনিম্ন রেকর্ড।
তবে জনপ্রিয়তা সামান্য বাড়লেও সামগ্রিক চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য আশাব্যঞ্জক নয়।
কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের জিজ্ঞেস করা হয়, আজ যদি কংগ্রেসের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তারা কোন দলকে ভোট দেবেন।
এর উত্তরে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটিই ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় ব্যবধান।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেট— যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিতেও ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে রেখেছেন ভোটাররা
অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন দলকে বেশি যোগ্য মনে করেন— এমন প্রশ্নে ৩৮ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম গ্রীষ্মকালে অর্থনীতির বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের ওপর সামান্য সুবিধা পেয়েছে।
ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে বলে জরিপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মার্কিন পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ প্রস্তাবেও ব্যাপক আপত্তি
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
কিন্তু জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।
এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও প্রায় ৪০ শতাংশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরোধিতার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।
হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজ নিয়েও দ্বন্দ্ব
ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প, যার মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি নতুন বলরুমও রয়েছে, সেগুলো নিয়েও মার্কিন জনগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
জরিপে ৯১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় চারজনের একজন এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন।
সামগ্রিকভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, এসব নির্মাণকাজ বর্তমানে সরকারের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রয়টার্সের এই জরিপে ১,১৪৩ জন মার্কিন নাগরিক অংশ নিয়েছেন। জরিপটির ভুলের সম্ভাব্য সীমা প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
জরিপটি দেখাচ্ছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে বাড়তি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
তবে জাতীয় জরিপের ফল দিয়ে চূড়ান্তভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে তা নিশ্চিত বলা যায় না, কারণ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ফল মূলত অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নির্ভর করবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ