সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ

রফিক রাফি

জাতীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভাও গঠন করা হয়েছে। এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সংসদের প্রথম

2026-02-21T20:57:00+00:00
2026-02-21T23:18:12+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ
রফিক রাফি
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৭ পিএম  আপডেট: ২১.০২.২০২৬ ১১:১৮ পিএম  (ভিজিট : ৬৩৩)
জাতীয় সংসদ ভবন। সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভাও গঠন করা হয়েছে। এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে হবে এবং কারা হচ্ছেন হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার  ও  ডেপুটি স্পিকার। 

বিএনপির সূত্র নিশ্চিত করেছে, সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার  ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবে সরকারি দল বিএনপি। 

তবে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানা গেছে, এখন চলছে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রস্তুতি। অধিবেশনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হবার দৌড়ে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও আন্দালিভ রহমান পার্থ। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংসদ অধিবেশন ডাকবেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ ডাকলে প্রথম বৈঠক কখন ও কোথায় হবে সেটাও তিনিই ঠিক করেন।

তবে তিনি নিজের ইচ্ছায় করেন না, প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে যা পরামর্শ দেবেন, সেটি অনুযায়ী করতে হয়। কতদিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে সেক্ষেত্রে অবশ্য সময় বেধে দেয়া আছে সংবিধানেই। ৭২ ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা আছে, জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের বৈঠক ডাকতে হবে।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৬ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম বৈঠক হতেই হবে। সে হিসেবে রমজানের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। 

জানতে চাইলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সময়ের আলোকে বলেন, অধিবেশনের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। 


স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সময়ের আলোকে বলেন, সংসদ অধিবেশনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

প্রধানমন্ত্রীর ‍প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সময়ের আলোকে জানান, এখনো এই বিষয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, হলে আপনাদের জানানো হবে। 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিএনপির স্পীকার কে হতে পারেন তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরেও রয়েছে জোর আলোচনা। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন ফারুককে এখনো কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিএনপির এই তিন নেতার নাম স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নামও আলোচনায় রয়েছে। 

বিএনপি সূত্র বলছে, আব্দুল মঈন খান স্পিকার হবার সম্ভাবনা বেশি। আর ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দুই বারের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) । আন্দালিভ রহমান পার্থকে ডেপুটি স্পিকার করার সম্ভাবনা বেশি। পার্থ বিএনপি জোট ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হিসেবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে ভোলা-১ আসনে নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
পঞ্চম সংসদ থেকে ১২তম সংসদে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সবাই ছিলেন আইন অঙ্গনের। 

৫ম ও ৬ষ্ঠ সংসদে স্পিকার ছিলেন আইনজীবী শেখ রাজ্জাক আলি, ৭ম সংসদে স্পিকার ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, ৮মে ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদে স্পিকার ছিলেন অ্যাডভোকেট শিরিন শারমীন চৌধুরী। সেই ধারাবাহিকতা মানলে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন হবেন ১৩তম সংসদের স্পিকার। 


আলোচনায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২(পলাশ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। তার বাবার নাম আবদুল মোমেন খান। মোমেন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আব্দুল মঈন খান সময়ের আলোকে বলেন, আমি অবগত না দল, যে সিদ্ধান্ত দেবে সেই দায়িত্ব পালন করবো। তবে
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম, যিনি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জয়নুল আবেদীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রয়াত খালেদা জিয়া ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনজীবী হিসেবে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আলোকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার উপর আস্থা রেখে আমাকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থার কারণে তাদের সমর্থনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছি। বিএনপি চেয়ারম্যান আমাকে যে কোনো দায়িত্ব দিলে, সেটাই পালন করবো।


আলোচনায় রয়েছেন ছয় বারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম। এর আগে তিনি ধারাবাহিকভাবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালে জুন মাসে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক সময়ের আলোকে বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। 

এরপরই আলোচনায় রয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যিনি কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দল তাকে সম্মানজনক পদে বসাতে পারে। তার নামটি স্পিকারের চেয়ে আগামী রাষ্ট্রপতি পদেই বেশি আলোচনায় আছে। 

বিগত দিনে বিএনপি যাদের স্পিকার নির্বাচন করেছিল : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে চতুর্থ জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন মির্জা গোলাম হাফিজ। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে পঞ্চম সংসদে শেখ রাজ্জাক আলীকে স্পিকার নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে অষ্টম জাতীয় সংসদে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে নতুন সরকার। প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতায় এল বিএনপি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   সংসদ  প্রথম  অধিবেশন  সরকার  বিএনপি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: