জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকারের অধীনে প্রথমবারের মতো পালিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে পাবনায় প্রশাসনিক উদাসীনতার চিত্র দেখা গেছে। জেলার সর্বোচ্চ দুই কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ মোস্তফা ও পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ উভয়ই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় জনমনে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।
২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে পাবনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে। তবে অনুষ্ঠানে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়, জেলা প্রশাসক শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। তার পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
একইভাবে পুলিশ সুপার ঢাকায় অবস্থান করায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউর রহমান মণ্ডলসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
জেলার সর্বোচ্চ বেসামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের একযোগে অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সুশীল সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন ভাষা আন্দোলনের মতো মর্যাদাপূর্ণ দিনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি কি আদৌ গ্রহণযোগ্য?
জেলা প্রশাসক মোঃ শাহেদ মোস্তফা জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ জানিয়েছেন, তিনি ওই সময় ঢাকায় ছিলেন।
পাবনার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠকরা এই অনুপস্থিতিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, ভাষা শহীদদের স্মরণ শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাষ্ট্রচেতনার প্রতিফলন। এমন দিনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে ধরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন সরকারের অধীনে প্রথম জাতীয় কর্মসূচিতে এমন চিত্র ভবিষ্যতের জন্য শুভ লক্ষণ নয় এবং এটি প্রশাসনের ভেতরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার সংকটকেই আরও স্পষ্ট করে।
সব মিলিয়ে, পাবনায় ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের দিনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিকতার ঘাটতি নয় এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ ও সম্মানের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সময়ের আলো/আরবিএন