এ বছরের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে দেশের সৃজনশীল প্রকাশকদের একটি অংশ ‘প্রকাশক ঐক্য’। অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া ও সমঝোতা মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলা একাডেমির ব্যর্থতা এবং এর ফলে সৃষ্ট চরম সময়স্বল্পতার কারণে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন সৃজনশীল প্রকাশকদের অস্থায়ী এ প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির সঙ্গে বৈঠকের পর নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা ও আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মেলায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ঐ বৈঠকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে তাদের মৌখিকভাবে সমঝোতা হয়েছিল যে, এবারের মেলায় সব ধরনের প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সবার জন্য সমান ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৫ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু বৈঠক-পরবর্তী বাংলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়।
প্রকাশক ঐক্য জানায়, তাদের মূল দাবি ছিল প্যাভিলিয়ন বাতিল করা, কেননা মাত্র ৪ দিন পর মেলা শুরু হতে যাচ্ছে। এত অল্প সময়ে প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা বাস্তবসম্মত নয়, অথচ তাদের আন্দোলনের সময় অনেক অপ্রধান প্রকাশক অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়ে নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে, মূলধারার সৃজনশীল প্রকাশকদের জন্য ছোট স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া অমর্যাদাকর হবে বলে তারা মনে করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ডিজি মহোদয় তাদের দাবি ন্যায্য বলে স্বীকার করলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ দেখা নেননি। পরে সংস্কৃতি সচিব ফোন করে প্রকাশক ঐক্যকে জানান, প্যাভিলিয়ন বাতিল করা সম্ভব নয় এবং প্যাভিলিয়ন রেখেই তাদের মেলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই অনিশ্চয়তার কারণে আজ পর্যন্ত স্টল নম্বর বরাদ্দের লটারি করা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্বোধনের মাত্র ৩ দিন আগে খালি মাঠে স্টল নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সংযোগের মতো কাজ করা কারিগরিভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এমতাবস্থায় বাধ্য হয়ে ‘প্রকাশক ঐক্য’ ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলা থেকে নিজেদের বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে, তারা সরকারবিরোধী নয় বরং বইমেলার সাফল্য কামনা করে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূস বইমেলার উদ্বোধন করবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশক ঐক্যের পক্ষে মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউজ), এ.কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মনিরুল হক (অনন্যা), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন), জসীম উদ্দিন (কথাপ্রকাশ), মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (বাতিঘর), মো. মোবারক হোসেন (প্রথমা), মো. গফুর হোসেন (রিদম), ইকবাল হোসেন সানু (লাবনী), দীপঙ্কর দাশ (বাতিঘর), কামরুল হাসান শায়ক (পাঞ্জেরি), মো. জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন), মাহ্রুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল) ও মাহাবুব রাহমান (আদর্শ) স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য, জহির দীপ্তি, মাহরুখ মহিউদ্দীন ও মাহাবুব রাহমান এ বছর অমর একুশে বইমেলা কমিটির সদস্য।
সময়ের আলো/এনএ