রাজধানীর আদাবরে একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা চালিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্র। এ সময় তারা কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পর এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করলে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন, মারুফ ও হাসান।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আদাবরের ১৭ নম্বর রোডে এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক লোক হামলার বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আবির এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় আকস্মিকভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা হামলা চালায়। এ সময় ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন।
তিনি জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেল নামের স্থানীয় এক কিশোর গ্যাং সদস্য তার চাচার কাছে ঈদ উপলক্ষ্যে চাঁদা দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় সন্ধ্যায় রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের কারখানায় হামলা চালায়। এ সময় কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলছেন, আদাবরের কিশোর গ্যাং লিডার রাসেল ওরফে কালা রাসেলের নেতৃত্বেই আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা মূলত আদাবরের আরেক কিশোর গ্যাং লিডার রানার অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করে থাকে। এই রানা আদাবর ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদার দাবিতে হামলা চালায়। তবে জীবননাশের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাসিন্দারা এসব তথ্য জানান।
এদিকে, এই ঘটনার বিচারের দাবিতে রাত সাড়ে ১০টায় আদাবর থানা ঘেরাও করেন এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের আদাবর থানার সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ প্রসঙ্গে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আদাবর থানার সামনে আজ শতাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় একটি ঘটনা ঘটার প্রেক্ষিতে তারা থানার সামনে অবস্থান নেয়। গতকাল ওই কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
তিনি জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বরের বাসায় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। এরপর সেখান থেকে শ্রমিকরা বিচারের দাবিতে থানার সামনে জড়ো হয়। আদিব এমব্রয়ডারির মালিক জহির ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/এনএ