রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সন্মেলনে কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অন্তর্বর্তী সরকারে নির্দেশনায় ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এ সময় দলের পক্ষ থেকে তিনি সারা দেশের বিভিন্ন আসনের ভোটে অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
অর্ন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘তাদের নির্দেশনায় প্রশাসন নির্বাচনে কারচুপি করেছে। জাতীয় পার্টিকে তাকে শক্তিশালী আসনগুলোতে তৃতীয় করা হয়েছে; জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, জাতীয় পার্টির জন্য যা বিস্ময়কর। তারপরও তারেক রহমান ও নতুন সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই। নতুন সরকার প্রতিহিংসা পরিহার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি করবে, আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অসংখ্য কেন্দ্রে জাতীয় পার্টিকে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্টে ঘসাভাজা দেখেছি আমরা। ঘসাভাজা করা একটি কাগজ আমাদের কাছে এসেছিল। এজেন্টকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের কাছ থেকে আগে সই নেওয়া হয়েছে। ব্যাপকভাবে ভোটের আগে ভোট কেনা হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
গণভোটে সবচেয়ে বেশি কারচুপি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কুলষিত হচ্ছে গণভোট। গণভোটের ৭৩ লাখ বাতিল ভোট হয়েছে, একটি ভোটে ৭৩ লাখ বাতিল ভোট কীভাবে হয়।’
নতুন সরকার প্রতিহিংসা পরিহার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি করবে এমন প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘গত ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে জাতীয় পার্টি মবের শিকার হয়েছে। এ ধরনের আচরণ রাজনীতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত, এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময় সংবাদ সন্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, মঈনুর রাব্বী চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য খলিলুর রহমান খলিল, জাহিদুর রহমান জাহিদ, ভাইস চেয়ারম্যান আখতার হোসেন, আব্দুস সোবহান, হেলাল উদ্দিন হেলাল, মো. সেলিম প্রমুখ।
সময়ের আলো/এনএ