অপেক্ষার প্রহর শেষে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রকাশকদের একটি বড় অংশের (প্রকাশক ঐক্য) বিরোধিতার মধ্যেই স্টল তৈরির কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্টল ও প্যাভিলিয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্টলের খুঁটি ও টিন বসানোর কাজ চলছে। কাঠের ফ্রেমে হাতুড়ির শব্দ আর চারপাশে রঙের আচরে মুখরিত হয়ে উঠেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। আয়োজন বলে দিচ্ছে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এমন চিত্র দেখা যায়।
বাঙালির প্রাণের আবেগে পূর্ণ অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই দিন সকালে একুশে পদক প্রদান করবেন এবং বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
এর আগে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনের কথা জানিয়েছিল বাংলা একাডেমি। এরপর জাতীয় নির্বাচনের কারণে প্রায় এক মাস পিছিয়ে শুরু হতে চলেছে এবারের বইমেলা। তবে, রোজা আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবারের আয়োজন কতটা জমে উঠবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে, আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের বইমেলাও জমে উঠবে লেখক পাঠকের সমারোহে।
বইমেলার মাঠে কর্মরত মো. সালাহউদ্দিন নামে একজন জানান, কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলার আয়োজন ঘিরে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। তবে, এবারের চিত্র ভিন্ন। নির্বাচনের কারণে এবার বইমেলা শুরু হচ্ছে দেরিতে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে ঘিরে দেশের সবচেয়ে বড় এই আয়োজন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকরা। এবার রমজান মাসে মেলা আয়োজন হওয়ায় থাকছে কিছুটা ভিন্নধর্মী ব্যবস্থাপনা।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, মেলায় প্রায় ১১৫০টি স্টল থাকছে, যা আগে থেকে কিছুটা বেশি। তবে, প্রতিবছর ফাল্গুনের দিনগুলোতে সবসময় ভিড় থাকে। ২১শে ফেব্রুয়ারির দিন এক বিশাল জনসমাগম দেখা যেত, সেটা এবার আর সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গতকাল শনিবার রাত ১০টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশক ঐক্য জানায়, মেলার মাঠে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া, সমঝোতা মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলা একাডেমির ব্যর্থতা, এবং এই দুইয়ের ফলশ্রুতিতে চরম সময়স্বল্পতার কারণে আসন্ন বইমেলায় তাদের পক্ষে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশক ঐক্য জানিয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা ঈদের পর মেলা আয়োজনের দাবি থেকে সরে আসেন। নিশ্চিত ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে জেনেও তারা মেলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেলায় অংশগ্রহণের আবেদনও সম্পন্ন করেন এবং প্রকাশক ঐক্যর সঙ্গে যুক্ত তিন শতাধিক সাধারণ প্রকাশককেও তাঁরা বইমেলায় অংশ নিতে রাজি করান।
প্ল্যাটফর্মটির দাবি, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক মিটিংয়ের আগে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে যে যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে তাদের মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল সব প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সবাইকে সমতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া। এই দাবির পেছনের কারণগুলো হলো ‘চরম সময়স্বল্পতা’, ‘অস্বচ্ছ বরাদ্দ ও অমর্যাদা’ এবং ‘অনায্য সুবিধা ও বৈষম্য’।
এবার বইমেলায় সবার সমান অধিকারের স্বার্থে প্রকাশক ঐক্য কোনো প্যাভিলিয়ন নেবেন না এবং অন্য কাউকেও প্যাভিলিয়ন না দেওয়ার দাবি জানায়। এরপর সব প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সর্বোচ্চ পাঁচ ইউনিটের স্টল সমানভাবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে মৌখিক সমঝোতাও হয়। কিন্তু বাংলা একাডেমি ‘অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়’ অনেক প্রকাশককে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।
তাদের ভাষ্য, এরই মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশকেরা তাদের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেন। এর ফলে, মূলধারার প্রকাশকদের জন্য ছোট স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া অমর্যাদাকর। ফলে, সব প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানান তারা।
প্রকাশক ঐক্যের অভিযোগ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক তাদের এই দাবিকে বাস্তবসম্মত আখ্যা দিয়ে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করলেও বৈঠকের পর তা চেপে যাওয়া হয়। পরে একাধিকবার মনে করিয়ে দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সময়ের আলো/এনএ