রাজস্ব আদায়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।শুধু জানুয়ারিতে রাজস্ব আদায়ে

2026-02-25T02:35:07+00:00
2026-02-25T02:35:07+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
রাজস্ব আদায়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। 

শুধু জানুয়ারিতে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩.২ শতাংশ। গত কয়েক মাসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। যা দেশের বাণিজ্য প্রবাহে অস্থিরতা ও মন্থর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

Advertisement
একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ের এই বড় ব্যবধান নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির তুলনায় জানুয়ারি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের পতন হলো। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাসিক রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ থেকে ২৫ শতাংশ। 

অর্থবছরের প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকলেও জানুয়ারির এই স্বল্প প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমদানি ও অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে যে ইতিবাচক মোড় তৈরি হয়েছিল, তা এখন গতি হারিয়ে ফেলছে। কেবল জানুয়ারি মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। শুল্ক আদায় পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে আসায় এই মন্থরতা নতুন সরকারের আগামী মাসগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত ২৩ ফেব্রুয়ারির প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ শতাংশ থাকলেও ২.৮৩ লাখ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত আদায় হয়েছে ২.৬৩ লাখ কোটি টাকা। গত বাজেটের পর প্রথা ভেঙে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫.৫৪ লাখ কোটি টাকা করা হয়। 

এনবিআরের তথ্য বলছে, গত সাত মাসে গড়ে প্রতি মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকার কিছু কম। তবে পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এনবিআরকে অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে গড়ে প্রতি মাসে ৬৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। 


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বাস্তবে সম্ভব হবে না। এই বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতিতে এমন কোনো গতি আসেনি যে এত বেশি হারে রাজস্ব আদায় করতে পারবে এনবিআর। ফলে চলতি অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতির দিকে যাচ্ছে সরকার। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফসহ কিছু খরচের খাত যোগ করেছে। এমন অবস্থায় প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হলে নতুন সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়বে। 

এ দিকে অর্থবছরের সাত মাসের মধ্যে ছয় মাসই রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের ওপরে থাকলেও জানুয়ারিতে হঠাৎ এই পতনের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

আমদানি শুল্কের প্রায় ৯০ শতাংশই আদায় হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে। যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন বলেন, জানুয়ারিতে ওই কাস্টম হাউসে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তা হলে প্রবৃদ্ধি কেন কম হয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিনিয়োগে ও প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি রাজস্ব আদায় কম হওয়ার এটি বড় কারণ। 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এনবিআরের সক্ষমতার ঘাটতি, যার কারণে করজাল বাড়ানো যাচ্ছে না এবং কর ফাঁকি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য যেসব সংস্কার বাস্তবায়ন করার দরকার ছিল, তার তেমন কিছুই হয়নি। ফলে আগামী দিনে ভালো রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনাও কম।

এদিকে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী পাঁচ মাসে বিপুল পরিমাণ শুল্ক-কর আদায় করতে হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠিত হয়। হিসাব করে দেখা গেছে, নতুন সরকারকে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। 

প্রতি মাসে গড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করতে হবে। এত বিপুল অর্থ আদায় করা এত সহজ নয়। কারণ চলতি অর্থবছরের কোনো মাসেই এত রাজস্ব আদায় হয়নি। গত জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। আর এ বছরের সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায় হয়েছে আগস্ট মাসে ২৭ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। বাকি সব মাসে ২৭ হাজার টাকা থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ঘোরাঘুরি করেছে।

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য অর্জনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি স্বাভাবিক করা। কারণ নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরে ব্যবসা-বাণিজ্য শ্লথ যাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগও তেমন একটা আকৃষ্ট হচ্ছে না। এসব কারণে রাজস্ব আদায় কাক্সিক্ষত হারে হচ্ছে না। তাই নতুন সরকারকে ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা রাখার পদক্ষেপ নিতে হবে। 

এ ছাড়া পুরোনো রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে এত বিশাল লক্ষ্য অর্জন কঠিন। এ জন্য সংস্কার প্রয়োজন। ইতিমধ্যে এনবিআর বিলুপ্ত করে নীতি ও আদায় দুটি আলাদা বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ওপর এই সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়েছে।

এ ছাড়া কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, করজালের বাইরে থাকা করযোগ্য মানুষকে করের আওতায় আনা, রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এসব পুরোনো সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হতে হবে।

সময়ের আলো/এআর
  বিষয়:   রাজস্ব  ঘাটতি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: