ঠান্ডা ভাত খেয়ে রোজা রাখছে জুলাই শহিদের পরিবার, মেলেনি স্বীকৃতি খোঁজ নেয় না কেউ

মাহমুদুল হাসান রিফাত

জাতীয়

জুলাই অভ্যুত্থানের পর কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। অন্তর্বর্তী সরকারের পাট চুকিয়ে দেশ প্রবেশ করেছে নির্বাচিত সরকারের সময়ে। ১৪০০ প্রাণের

2026-02-26T21:29:15+00:00
2026-02-26T21:42:00+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
ঠান্ডা ভাত খেয়ে রোজা রাখছে জুলাই শহিদের পরিবার, মেলেনি স্বীকৃতি খোঁজ নেয় না কেউ
মাহমুদুল হাসান রিফাত
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম  আপডেট: ২৬.০২.২০২৬ ৯:৪২ পিএম
জুলাই শহিদ ইউসুফ (বামে) এবং ছেলের কবরের পাশে মা সাথী ইসলাম। ছবি কোলাজ : সময়ের আলো
জুলাই অভ্যুত্থানের পর কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। অন্তর্বর্তী সরকারের পাট চুকিয়ে দেশ প্রবেশ করেছে নির্বাচিত সরকারের সময়ে। ১৪০০ প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সফল না হলে হয়তো ক্ষমতার মসনদে বসা হত না ড. ইউনূস বা বিএনপির।

অথচ যাদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করেছেন অনেকেই, সে শহিদ পরিবারকে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখতে হচ্ছে শুধু ঠান্ডা ভাত খেয়ে। বলছি, ঐতিহাসিক জুলাই  অভ্যুত্থানে  শহিদ  ইউসুফের পরিবারের কথা।

মাদরাসার পড়া শেষে করে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছিলেন ইউসুফ। পুরো জুলাই আন্দোলনে ধানমন্ডি-কলাবাগান এলাকায় সম্মুখ সারিতে ছিলেন তিনি। পাঁচ আগস্টের বিজয়ের দিন সকালে লংমার্চে বের হন ইউসুফ। পরদিন সকালে ধানমন্ডি ৩২ এলাকা থেকে ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আজিমপুর কবরস্থানে বৈষম্যবিরোধী অন্য ১৩ জন শহিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

আশপাশের সব কবর সংস্কার করা হলেও অবহেলায় পড়ে থাকা একমাত্র কবরটি শহিদ ইউসুফের

আশপাশের সব কবর সংস্কার করা হলেও অবহেলায় পড়ে থাকা একমাত্র কবরটি শহিদ ইউসুফের


সাথী ইসলাম বুক চাপড়ে আক্ষেপের সুরে বলেন, বাকি ১৩ জন শহিদের কবর পাকা হলেও আমার দুর্ভাগা ইউসুফের কবরটি পাকা করা হয়নি। কেন করা হয়নি, তার উত্তর কেউ দেয় না। অথচ নামফলকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদের কথা স্পষ্টভাবে লেখা আছে।

ইউসুফের মা সাথী ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, যাদের জন্য আমার ছেলে জীবন দিলো, তারাই আমার খোঁজ নেয় না। দুই বছর পার হলেও তেমন কিছু জোটেনি। তবে ছাত্রদলের কাছ থেকে কয়েকটি স্মারক আর ১০ হাজার টাকা পেয়েছি একবার।

তিনি জানান, শহিদ ইউসুফের পিতা পায়ে টানা রিকশা চালাতেন। একমাত্র পুত্র হারানোর শোকে দুইবার স্ট্রোক করেছেন। এখন অসুস্থ অবস্থায় তেমন রোজগার করতে পারেন না। বাসা ভাড়া প্রায় ৭ মাস বকেয়া। বাসার মালিক ঘাড় ধাক্কা দিতে বাকি রেখেছেন। অপমানে বাসা থেকে এখন আর তেমন বেরও হন না।

সাথী ইসলাম কেঁদে কেঁদে জানান, শহিদ ইউসুফের ছোট বোনকে গত বছর থেকে টাকার অভাবে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না। এ বছরের দুই মাস চলে গেলেও ভর্তি করাতে পারেননি তিনি। খাওয়া-দাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য হাত পাতার অবস্থায় পৌঁছে গেছেন তারা। 

জুলাই শহিদের সরকারি তালিকায় নাম ওঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের বাবার বাড়ির লোকদের কাছ থেকে অর্থ ধার করে নানা লোকের মাধ্যমে চেষ্টা করেও তালিকায় ছেলের নাম ওঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। মাসের পর মাস মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের গেটে পড়ে থাকলেও উপদেষ্টার খারাপ ব্যবহার ছাড়া কপালে জোটেনি কোনো সনদ বা সাহায্য। তিনি স্পষ্ট করে তৎকালীন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের একাধিকবার দুর্ব্যবহারের কথা জানান।

অর্থকষ্টে জর্জরিত জুলাই শহিদের আশাহত এই মা বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করে বলেন, আমার ছেলে ১৩-১৪ বছর থেকেই স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ঘোর ফ্যাসিবাদের আমলেও বিএনপির মিটিং-মিছিল করেছে। শেষে জীবন পর্যন্ত দিলো স্বৈরাচারের গুলিতে। এখন আপনি দেশের দায়িত্বে। আমি ইউসুফ হত্যার বিচার চাই, শহিদের তালিকায় আমার ছেলের নাম চাই। স্বামী-সন্তান নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে চাই।

/এমএইচআর 



  বিষয়:   শহিদ ইউসুফ  জুলাই  পরিবার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: